বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা : ঘটনাস্থলে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশ সুপার

বান্দরবান রিপোর্ট –

bb

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে নিজ ধ্যান ঘরে এক বৌদ্ধ ভান্তেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের উপর চাক পাড়া এলাকায়। খুন হওয়া ভান্তে উপর চাক পাড়া এলাকার মৃত অংথোয়াই চাকের পুত্র মংশৈউ চাক (৭৫)।

ভান্তের পুত্র অংছাথোয়াই চাক বলেন, শনিবার ভোর ৫ টায় বাবাকে পুত্রবধূ মানুংচিং চাক খাবার দিতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় খবর দেয় এবং পরে তারা প্রশাসনকে খবর দিলে তাৎক্ষনিক বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান, সহকারী ইনচার্জ উমর ফারুক ঘটনাস্থলে পৌছান।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নায়েব সুবেদার খুরশেদ আলমের নেতৃত্বে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির একটি টহল দল, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়েত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর বিকাল ৫ টার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হয়ত এই ঘটনা ঘটাতে পারে। এছাড়া গত এক সপ্তাহ আগে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি জায়গা বিক্রি করেছিল, হয়ত ঐ টাকার জন্য সন্ত্রাসীরা এই কাজ করেছে। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত চলছে, অবশ্যই অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল বিহারের চারশত গজ দূরত্বে পরিত্যক্ত জুনিয়র হাইস্কুলের কাছেই অবস্থিত নিজের ধ্যান ঘরের ভিতরেই মংশৈউ চাকের লাশ গলাকাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু বিহারের কোন জিনিষ পত্র এলোমেলো নেই এবং কোন প্রকার টাকা-পয়সা বা মূর্তি লুটতরাজ হয়নি বলে দাবী করেন স্থানীয়রা।

এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত পুলিশ ও বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ঘেরাও করে রেখেছে এবং বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুর লাশ ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক অথবা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মংবাচিং চাক ও অংছাগ্য চাক ছাড়াও এলাকাবাসীরা জানান, খুন হওয়া মংশৈউ চাক এলাকায় বাইট্যা মছু নামে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি সহজ-সরলমনা হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে ভালবাসত। তবে তিনি একা থাকতে ভালবাসতেন। এলাকায় কারো সাথে তার শত্রুতা থাকতে পারে এটা কল্পনাও করা যায় না। তারা আরো জানান, মংশৈউ চাক বিগত ২/৩ বছর ধরে নিজের জায়গায় ধ্যান ঘর তৈরী করে সেখানে একা বসবাস করে আসছেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment