বাঘাইছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যবসায়ী নিহত

বাঘাইছড়ি রিপোর্ট –

Accident

বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৩ মাইলের দুইটিলা নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন (৩৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। তবে নিহতের বড় ভাই আবুল কালাম এ ঘটনাকে হত্যাকান্ড বলে দাবী করেছেন।  কিন্তু পুলিশের দাবী এটি হত্যাকান্ড নয় – দুটি মোটর মাইকেলের সামনা সামনি সংঘর্ষের কারণেই তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যূ হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, আগের দিন সন্ধ্যায় মারিশ্যায় গিয়ে তার ব্যবসার টাকা সংগ্রহ করে মারিশ্যা রেষ্ট হাউসে রাত্রি যাপন শেষে বৃহস্পতিবার তোফাজ্জল হোসেন মোটর সাইকেলযোগে উপজেলার মারিশ্যা থেকে গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তোফাজ্জল হোসেন মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ১৩ মাইলের দুইটিলা নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর এক মোটর সাইকেলের আরোহীর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে তোফাজ্জল হোসেন নিহত হন। অপর মোটর সাইকেল চালক ঘটনার পর পর পালিয়ে যায়।

এদিকে, নিহত তোফাজ্জলের লাশ খাগড়াছড়ি আধুনিক হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিকালে খাগড়াছড়িতে তার লাশের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠান শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়ী সীতাকুন্ড থানার উত্তর বগাচত্তর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিহত তোফাজ্জল হোসেনের বড় ভাই মোঃ আবুল কালাম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেছেন, তার ভাইকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে। নিহত তোফাজ্জলের খাগড়াছড়ি শহরের জননী নামের একটি কম্পিউটার দোকান রয়েছে। সে গত বুধবার বিকালে পাওনা টাকা সংগ্রহ করতে বাঘাইছড়ির মারিশ্যা গিয়েছিল।

এদিকে, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মোজাম্মেল হক জানান, দুই মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে তোফাজ্জল হোসেন মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অপর একটি নাম্বার বিহীন মোটর সাইকেল (যা স্থানীয়ভাবে টানা গাড়ী নামে পরিচিত) দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়কের চার কিলোমিটার এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ওই মোটর সাইকেল চালক খোরশেদ (জর্জ) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলে ঘটনার আসল রহস্য জানা যাবে।

অপর একটি সূত্রে জানিয়েছে, নিহত তোফাজ্জল হোসেন এক সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থানর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। এক সময় খাগড়াছড়ি শহরে আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে চাকুরী নেয়। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ি শহরে জননী কম্পিউটার দোকান দেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment