জুরাছড়িতে নির্বাচনী আমেজ নেই, আতংকের মধ্যে নৌকার প্রার্থী-সমর্থক

জুরাছড়ি রিপোর্ট –

Jura

নির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং হবে, সভা সমাবেশ হবে, মুক্তমনে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইবে, সাধারণ জনগণ দাবী দাওয়া তুলবে এটাই নির্বাচনের স্বাভাবিক চিত্র।

আগামী ৪ জুন জুরাছড়ি উপজেলায় ইউপি নির্বাচন। অথচ উপজেলা সদরে কিছু মাইকিং লক্ষ্য করা গেলেও গ্রামে সেই আমেজ এবারে নেই। অভিযোগ রয়েছে জন সংহতি সমিতি সমর্থিত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী ছাড়া গ্রামে গ্রামে অন্য প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে সংগঠনটি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা জেএসএসের সাধারণ সম্পাদক সমিত চাকমা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেও এবারের নির্বাচনে জন সংহতি সমিতির দূর্গে হানা দিয়ে জুরাছড়ি সদর ও মৈদং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ ছিনিয়ে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে স্থানীয় সংগঠন জেএসএসের নামে অজ্ঞাত কিছু সন্ত্রাসী সাধারণ জনসাধারণকে আওয়ামী লীগের প্রচারণা সভায় যোগদানে বাঁধা ও তাদের সমর্থকদের দুর্গম এলাকায় নিয়ে ভয়-ভীতি, হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের অভিযোগ। তারা সাধারণ জনসাধারণের নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদিকা মিতা চাকমা ও মৈদং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমা নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিতা চাকমার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জন সংহতি সমিতি সমর্থিত (স্বতন্ত্র) ক্যানন চাকমা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাপানী বিজয় দেওয়ান। মৈদং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী লাল বিহারী চাকমার প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জন সংহতি সমিতি সমর্থিত (স্বতন্ত্র) সাধনা নন্দ চাকমা (হেডম্যান) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মঙ্গল বিকাশ চাকমা।

মৈদং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী লাল বিহারী চাকমা মুঠো ফোনে জানান, পার্বত্য আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএসের নামে অজ্ঞাত কিছু দুর্বৃত্ত সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করছে। যার কারণে সাধারণ জনগণ প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দিচ্ছে না।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা দলীয় প্রার্থীদের জয়ী করতে পাহাড় থেকে পাহাড়ে নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটারদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোট চাইতে যান। গেলো বুধ ও বৃহস্পতিবার ঘিলাতলী, শিলছড়ি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা সভা করতে গেলে সাধারণ জনসাধারণকে আওয়ামী লীগের প্রচারণা সভায় যোগদানে বাধা দেয় অজ্ঞত সন্ত্রাসীরা। সেনা বাহিনীর নাকের ডগায় স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীদের মুঠোফোনে আওয়ামী লীগের প্রচারণা সভা করতে না দেওয়ার এমন হুমকিতে এবং গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের নিরাপত্তাহীনতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

শিলছড়ি নির্বাচনী পথসভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা, যুব লীগের সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান, এড়াইছড়ি মৌজার হেডম্যান রিতেশ চাকমা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কল্পিতা চাকমা, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জ্ঞান মিত্র চাকমাসহ ২০জন দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment