কেন্দ্র দখল, পুলিশের গুলি ও ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে কাপ্তাই ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন

কাপ্তাই রিপোর্ট –

Vote

কাপ্তাই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে শনিবার (৪ জুন) কেন্দ্র দখল, পুলিশের গুলি, নির্বাচন বর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে দাবী করা হয়।

উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর বড়ইছড়ি বাজার ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হলে পুলিশ গুলি ছোঁড়ে বলে কাপ্তাই থানার পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন প্রায় সাড়ে ১১ টার সময় দুই পক্ষ দুদিক থেকে কেন্দ্র দখল করতে ছুটে আসে। এসময় কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ২ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়া হয়। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

ওয়াগ্গা ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফর আহমদ স্বপন সকাল ১০টার সময় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

একই ধরনের অভিযোগে শীলছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাড়ে ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত ছিল বলে জানা গেছে। এই কেন্দ্রে বেলা ২টার সময় ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মো: মহির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন এই ইউনিয়নের ৫ নম্বর কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র প্রতিপক্ষ দখল করে নেয়। ধানের শীষের পক্ষে কোন কেন্দ্রে তিনি এজেন্ট দিতে পারছেন না বলেও জানান। নিরপেক্ষ ভোট হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নে ৫ নম্বর কারিগর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মহিলা বুথের ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের তাৎক্ষনিক অভিযানে ব্যালট বাক্স বেহাত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। এদিকে রাইখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মংক্য মারমা অভিযোগ করে বলেন দুর্গম ডংনালা, ভালুক্যা, তিনছড়ি ও নারাছড়া কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের শক্তি প্রয়োগের কারণে তিনি এজেন্ট দিতে পারেননি। রাইখালী ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, তিনি কোন কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারছেন না। তার পক্ষের লোকজনকে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন দুর্গম এলাকায় জেএসএসের একচেটিয়া প্রভাব ছিল লক্ষণীয়। সেখানে প্রতিপক্ষের কোন এজেন্টকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল আলম বলেন, আমরা সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ নির্বাচন করতে পেরেছি। তবে কেউ কেউ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন কোন প্রার্থী যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করেন সেক্ষেত্রে কারো কিছু করার নাই। তবে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা বলবৎ ছিল বলেও তিনি জানান। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি, বিজিবি এবং আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল সোহেল উদ্দিন পাঠান নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে জানান। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি সদস্য টহলে ছিল। পাশাপাশি রিজার্ভ ফোর্সও রাখা ছিল।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment