রমজানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Bazar

রমজানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য এখন লাগামছাড়া। মাহে রমজান আসতে না আসতেই বাজারে হু-হু করে প্রতিটি দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রেতার নাগালের বাহিরে যাচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

রোববার (৫ জুন)  সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে প্রায় দ্বি-গুন বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের। বনরূপা কাচাবাজার ও মাছ মাংস বাজারে পবিত্র মাহে রমজান সামনে রেখে সব কিছুর দাম বেড়েছে। এদিকে কাচা শাকসব্জিসহ ছোলা, আদা, কাচা মরিচ, পিয়াজ, রসুনসহ প্রত্যেকটা প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। অপর দিকে ব্রয়লার, গরু ও দেশীয় মুরগির দাম প্রচুর পরিমানে বাড়ছে।

গত সপ্তাহে কাচা মরিচ ছিল কেজি ৬০ – ৭০ টাকা, টমেটো ছিল প্রতি কেজি ২৫ – ৩০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ছিল ২০ টাকা, তিত করলা প্রতি কেজি ৩৫ – ৪০ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, পিয়াজ ২৫ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা ও গাজর ৪০ টাকা বিক্রি হতো।

রমজানকে সামনে রেখে কাচা মরিচ এখন কেজি ১০০ – ১২০ টাকা, টমেটো ছিল প্রতি কেজি ৭০ – ৮০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, তিত করল্যা প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা, রসুন ২২০ – ২৫০ টাকা, পিয়াজ ৩৫ – ৪৫ টাকা বরবটি ৬০ – ৮০ টাকা ও গাজর ৬০-৮০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে শহরের বনরূপা কাচাবাজার ও মাছ বাজারে নজিরবিহীন ভাবে তরিতরকারি, রাউজান থেকে আসা তেলাপিয়া, পাংকাস, রুই ও সামুদ্রিক মাছে দাম বেড়েছে। বনরূপা কাচাবাজার ও মাছের বাজার যেন লাগাম হীন ঘোড়া। বনরূপা মাছ ব্যবসায়ী ও কাচামাল ব্যবসায়ীদের কাছে শহরের জনগণ জিম্মি। মাছ ব্যবসায়ী ও কাচামাল ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে অনেক ক্রেতাদের অভিযোগও রয়েছে বলে জানাগেছে।

অপর দিকে জেলা প্রশাসন ও বনরূপা গরু মাংস বিক্রেতাদের সাথে দর গড়মিল দেখা দেওয়ার কারণে গত ১০ দিন আগে থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বনরূপা বাজারে গরু মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। গরু মাংস বিক্রেতা মো. জাফর মুঠো ফোনে জানান, জেলা প্রশাসন গরু মাংস কেজি প্রতি (হাড়সহ) ৪শ’ টাকা বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে যা বিক্রি করলে প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকার মত লোকসান দিতে হবে। যার জন্য গরু মাংস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

টিসিবির দায়িত্ব প্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা কবির জানান, টিসিবি রমজানকে সামনে রেখে প্রত্যেক জেলায় ভ্রাম্যমান ট্রাকে করে ন্যায্যমূল্যে মালামাল বিক্রি করবে। প্রতি কেজি দেশি চিনি ৪৮ টাকা (ভোক্তা প্রতি সর্বোচ্চ ৪ কেজি), প্রতি কেজি মসুর ডাল ৮৯টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৭০ টাকা, খেজুর প্রতি কেজি ৯০টাকা ও সোয়াবিন প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।

রাঙ্গামাটি মার্কেটিং অফিসার মো.সেলিম মিয়া জানান, বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে তা সত্য। বিক্রেতারা বলেছেন চট্টগ্রামের চাক্তাই বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখানকার বাজারেও দাম বেড়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে শিগগরি মাঠে নামছে বাজার মনিটরিং কমিটি। রমজানকে সামনে বাজারে টিসিবির ন্যায্য মূল্যে দ্রব্যমূল্য বিক্রির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিলার নিয়োজিত আছে। তবলছড়ি বাজার এলাকায় ডিলার জাকির হোসেন ও রির্জাভ বাজারে ডিলার বিমল বড়ুয়া আছেন। তবে এখনো টিসিবির মালামাল পায়নি বলে জানান তারা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক (ভারপ্রাপ্ত) তানবীর আযম সিদ্দিকী বলেন, রমজানের আগেই বাজার মনিটরিং করার ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে নামবে। এতে যদি কোন প্রকার অনিয়ম বা দর নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায় তা হলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেবে ভ্রাম্যমান আদালত।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment