বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতা অপহৃত

বান্দরবান রিপোর্ট –

BB

বান্দরবানে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা। গত সোমবার রাতে জামছড়ি মুখ পাড়া থেকে মংপু মারমা নামের এই নেতাকে ১০/১২ জনের একটি অস্ত্রধারী গ্রুপ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদর জোনের আওতাধীন বেশ কয়েকটি ক্যাম্প কর্তৃক উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশও তার খোঁজে ঐ এলাকায় গিয়েছে।

অপহৃত মংপু মারমা বান্দরবান সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন জন সংহতি সমিতির অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে থাকতে পারে। এই অপহরণের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১১ টার দিকে ১০/১২ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল জামছড়িমুখ পাড়া ঘেরাও করে মংপুকে অপহরণ করে গভীর জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। তাকে মনজয় পাড়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ঘটনা জানাজানি হলে রাতেই বাঘমারা, ডলু পাড়া, আন্তাহা পাড়া ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি টহল দল উদ্ধার অভিযানে নামে।

সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র জন সংহতি সমিতির সাথে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান অপহৃত আওয়ামী লীগ নেতাকে উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী অভিযান শুরু করেছে। সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বান্দরবান শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অপহরণের প্রতিবাদে বান্দরবানে আগামী ১৫ই জুন ২০১৬ থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সড়ক ও নৌ-পথ অবরোধের ডাক দিয়েছে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ। বান্দরবান মুক্ত মঞ্চের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা এ ঘোষণা দেন। তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপহৃত সাবেক মেম্বারকে সুস্থ অবস্থায় ছেড়ে দিতে হবে। অন্যথায় বান্দরবান জেলার সকল প্রকার সড়ক ও নৌ পথে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবরোধ চলবে। তবে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে স্থানীয় দোকান খোলা থাকবে।

এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মার্মা, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রহিম চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, সদস্য শফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি একে এম জাহাঙ্গীর, সাবেক রোয়াংছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান হ্লা থোয়াই হ্রী মার্মা, যুগ্ম সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষী পদ দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্য সা প্রু, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যা তিং তিং ম্যা মার্মা, বান্দরবান পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর অজিত কান্তি দাশ, কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানুপ্রু মার্মা, আওয়ামী লীগের নেতা ঝুন্টু দাশ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা শামসুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশাসহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment