কৃষি বীজ সংরক্ষণ ও ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Larma

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেছেন, পাহাড়ের মানুষ এখন অনিশ্চিত অবস্থায় বসবাস করছে। এখানকার সাধারণ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা যথাযথ নয়। একটা অঞ্চলের উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হচ্ছে তার সুষ্ঠু শাসন ও আইন-শৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখা। কিন্তু বর্তমানে পাহাড়ে সেই বাস্তবতা নেই।

তিনি প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করে বলেন, কৃষি অর্থনীতি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব। পার্বত্য জনপদে যারা সরাসরি কৃষি উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা এই অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত জনগোষ্ঠী। এসব জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। কৃষি উন্নয়নে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ও পরিবার তথা সামাজিক উন্নয়নে পাার্বত্য চট্টগ্রামের সেই পুরানো ভোগের উৎপাদন থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক কৃষি উৎপাদনের মধ্য দিয়ে এলাকার অথনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শনিবার (১৮ জুন)  রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের কৃষি বীজ সংরক্ষণ ও ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহারের উপর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

শহরের আশিকা কনফারেন্স রুমে এগ্রেমেক-বিএনইউএফ জুম ফাউন্ডেশন ও প্রোগ্রেসিভ কনসর্টিয়ামের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক সুকৃতি রঞ্জন চাকমা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল, প্রকল্পের রাঙ্গামাটি প্রকল্প উপ-পরিচালক অবিরত চাকমা, বান্দরবান প্রকল্প উপ-পরিচালক যোগেশ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা, জুম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুজল কান্তি চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রোগ্রেসিভ কনসর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক তপন কান্তি পাল বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে কীভাবে সবজি উৎপাদন করা যায় তা কৃষকদের শিখতে হবে। তাতে মানুষ রাসায়নিকমুক্ত সবজি ও ফলমূল খেতে পাবে। এ প্রশিক্ষণে স্থানীয়ভাবে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে তুলবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়নো সম্ভব হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়ের পরিচালক সুকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, এ প্রশিক্ষণ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। এখানকার উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন স্থানে সফরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে প্রশিক্ষক এনেও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে সাপছড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষক-কৃষানীরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায়ের আওতায় ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসা উন্নয়ন একটি অন্যতম অঙ্গ। এটি যৌথভাবে এগ্রোমেক ইনিশিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট (আদি) ফাউন্ডেশন, বনশ্রী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, জুম ফাউন্ডেশন ও প্রোগ্রেসিভ কনসর্টিয়াম মাঠ পর্যায়ে তিন পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় (রাঙ্গামাটি- রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই ও কাউখালী, খাগড়াছড়ি- খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি এবং বান্দরবান- বান্দরবান সদর, রুমা ও রোয়াংছড়ি) বাস্তবায়ন করছে।

ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবসা উন্নয়ন অঙ্গ মোট চারটি সম্ভাবনাময় উপ-খাত নিয়ে কাজ করবে। উপ-খাতগুলো হচ্ছে: ১. সবজি (গ্রীষ্মকালীন সবজি ও শীতকালীন সবজি: বীজ উৎপাদন ও ফেরোমন ট্র্যাপ এর ব্যবহার); ২. ফলবাগান (আম, লিচু ও আমলকি), ৩. ঔষধি গাছ রোপণ, প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন এবং ৪. পুকুরে/জলাশয়ে মৎস্য চাষ। উপ-খাতগুলোর আলোকে এগ্রোমেক-বিএনইউএফ জুম ফাউন্ডেশন এবং প্রোগ্রেসিভ কনসর্টিয়াম প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment