চলতি বছরও বহাল থাকছে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক –

PSC

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করেনি মন্ত্রিসভা। এর ফলে এ বছরও পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বহাল থাকছে।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা বৈঠকে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ঋণচুক্তির খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা  পদ্ধতি চালুপূর্বক পঞ্চম শ্রেণি পর্যায়ে বিদ্যমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল’ প্রস্তাবটি আরো বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের মতোই পিইসি (পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী) ও জেএসসি (অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা হবে। এখন প্রাইমারি স্কুল এক জায়গায়, হাই স্কুল অন্য জায়গায়। হাই স্কুলকে ভাগ করে এক জায়গায় আনা যাচ্ছে না। এর জন্য সবকিছু ওয়ার্ক আউট করে প্রস্তাব উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার স্তর পরিবর্তনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবকাঠামোগত, শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ অনেক ধরনের কর্মকাণ্ড জড়িত। তাই আগের মতোই পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদের তোপের মুখে পড়েন। বিশেষ করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সিনিয়র মন্ত্রীরা বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা তুলে দেওয়া ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের এ পদ্ধতি তুলে দেওয়ার আগে জানা দরকার সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে কি না। হাই স্কুলের অর্ধেক প্রাইমারির সঙ্গে কবে যোগ হবে।

গতকাল প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বহাল থাকার খবরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। সচিবালয়ে কর্মরত এসব অভিভাবকের বক্তব্য হচ্ছে, সরকার কতবার এক সিদ্ধান্ত বদলাবে। দেশের সবচেয়ে বড় এই পাবলিক পরীক্ষায় ২৬ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রায় সমানসংখ্যক পরিবার এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত। বারবার সিদ্ধান্ত বদলিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের সব কিছু বুঝেই বক্তব্য দেওয়া উচিত বলে তাঁরা জানান।

গত ২১ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় চলতি বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকের সমাপনী হবে অষ্টম শ্রেণিতে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে সেদিন তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই তো কথা বলি। এবার থেকেই পঞ্চম শ্রেণিতে আর সমাপনী পরীক্ষা হবে না এ বিষয়ে আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, পদ্ধতিগতভাবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি।’

জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০-এ ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষানীতি অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তর হবে নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। গত ১৮ মে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা বাদ দেওয়ার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, মাদ্রাসার ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে ২০১০ সাল থেকে। আগে পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেওয়া হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment