মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ আজ

ডেস্ক রিপোর্ট –

Eid

একমাস রোজা রাখার পর বাংলাদেশের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ আজ। এবারের ঈদ বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য অন্য ঈদের চেয়ে আলাদাই হচ্ছে। কারণ, তাদের ঈদের আনন্দের সঙ্গে রয়েছে মাত্র ৭ দিন আগে ঘটে যাওয়া এক দুঃসহ শোক। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ প্রাণ ঝরে যাওয়ার শোক।

তবুও বছরে দুটি ঈদে ছুটি পাওয়া এবং স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি কেউ। তাই প্রায় অর্ধকোটি লোক ঢাকা ত্যাগ করে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে গ্রামের বাড়িতে গেছেন।

দেশের কয়েক কোটি মুসলমান আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈদগাহে কিংবা মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বেন।

এবারের ঈদের গুলশান হামলার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ঈদগাহ, মসজিদ ও বিনোদন কেন্দ্রে থাকছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়।

এছাড়া সকাল ৭টা থেকে এক ঘণ্টা পরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে ঈদের পাঁচটি জামাত। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমের জামাতই ঈদের প্রধান জামাত হবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের  বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।

প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ঈদের দিন সকাল ১০টায় এই জামাত পরিচালনা করবেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে বৃহস্পতিবার আষাঢ়ের ২২তম এই দিনে দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৯টা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সর্বস্তরের নাগরিক, সংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী, কূটনীতিকদের সঙ্গে গণভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, “ঈদ মুসলমানদের জন্য এক আনন্দঘন দিন। এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, সারা বাংলায়। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সমৃদ্ধ সমাজ – এ প্রত্যাশা করি।”

জাতিকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সকলের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। হিংসা ও হানাহানি ভুলে মানুষ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ  হয়।”

ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুঃস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলো ঈদের আগে-পরে কয়েক দিন ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলো সোমবার প্রকাশ করেছে ঈদের বিশেষ ক্রোড়পত্র।

ঈদ জামাত সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশে এবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা গঠন করেছেন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী।

ঈদ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলাবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আজ রাঙ্গামাটিতে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবলছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ কোতয়ালী থানা মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সকাল ৮টায় ও ৯টায় দু’দফায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়াও রিজার্ভ বাজার পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং মাঠে সকাল ৯টায়, বনরূপা আদালত প্রাঙ্গনে সকাল ৮টায় ও সকাল ৯টায় ২টি, ভেদভেদী আমানতবাগ মাঠে সকাল ৮টায় ও সকাল ৯টায় ২টি এবং পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠে সকাল ৯টায় ১টি ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ঈদ জামাত ও ঈদের দিনের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় জানানো হয় ঈদের দিনে মুসল্লীদের ঈদের জামাতে নামাজের পড়ার জন্য রাঙ্গামাটি জেলায় প্রতিবারের মতো ৫ টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদ জামাতের এলাকাকে সুসজ্জিত করার ব্যবস্থা নিতে পৌরসভা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদের জামাতের জন্য নির্বাচিত স্থানে মুসল্লীদের অজু করার জন্য পানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং ঈদের দিন ঈদ জামায়াতের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে প্রয়োজনে সময়মত পানি ছিটানোর জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে অনুরোধ জানানো হয়।

অন্যদিকে, ঈদের দিন এবং তার পরে রাঙ্গামাটি শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক সতর্কাবস্থা জোরদার করতে পুলিশ প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment