কাপ্তাইতে বুনো হাতির উপদ্রব : শতশত মানুষ আতংকিত

কাপ্তাই রিপোর্ট –

Elephant

কাপ্তাইতে বুনো হাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। হাতির উৎপাতে শতশত মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন। বুনো হাতি কখন কার বাড়িতে, কার ঘরে হামলা চালায় এটা নিয়ে সবাই শঙ্কিত। বুনো হাতি আগে রাতের অন্ধকারে লোকালয়ে আসতো। কিন্তু এখন তারা সন্ধ্যায় এবং দিনেও লোকালয়ে আসছে। এতে মানুষ আরো বেশি আতঙ্কিত।

স্থানীয়রা জানান কাপ্তাই উপজেলার লোকালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বুনো হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুনো হাতির বিচরণ বেশি দেখা যায় নৌ বাহিনী এলাকা, জীবতলী সেনানিবাস, নাবিক কলোনি, ফরেষ্ট কলোনি, বিএফআইডিসি রেষ্ট হাউজ, রাম পাহাড়, কাপ্তাই প্রজেক্টের ব্রিক ফিল্ড, কাপ্তাই খালের মুখ, চিৎমরমের আড়াছড়ি, রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালাসহ বিভিন্ন এলাকায় বুনো হাতি অবাধে ঘুরে বেড়ায়। বুনো হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে গতমাসে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

কাপ্তাই থানার এসআই কামাল উদ্দিন জানান, বুনো হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে গত ১৯ জুন রাত ৯টায় উপজেলার ব্যাঙছড়িতে সনাতন চাকমা দুখু (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের ডিএফও আব্দুল ওয়াদুদ জানান একই দিন উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ডংনালা নামক এলাকায় হ্লা থোয়াই প্রু মারমা (৪৫) নামক এক ব্যক্তি হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। বুনো হাতির আক্রমণে একই দিন একই সময় উপজেলার ২ স্থানে ২ ব্যক্তির মৃত্যু পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারীদের শঙ্কিত করে তোলে।

কাপ্তাইতে অবস্থিত বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বুনো হাতির তাণ্ডব অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বুনো হাতিগুলো তাঁর বাস ভবন ক্যাপ্টেন হাউজে আসে। প্যারেড ময়দানে আসে। বুনো হাতির পাল বৈদ্যুতিক খুঁটি, গ্যাসের লাইন, পানির পাইপ ইত্যাদি মাথা দিয়ে ঠেলে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। হাতি এবার নৌ বাহিনী এলাকার শতশত গাছের কাঁঠাল খেয়ে সাবাড় করে দেয়। বুনো হাতির তাণ্ডবে নাবিকরা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকেন বলেও তিনি জানান।

কাপ্তাই ফরেষ্ট কলোনির নুর মোহাম্মদ জানান কয়েকদিন আগে সন্ধ্যার সাথে সাথে ফরেষ্ট কলোনিতে ৪টি বুনো হাতি প্রবেশ করে। কলোনির দুই পাশের ঘরের কাছ ঘেঁষে হাতি যাতায়াত করে এবং কলাগাছ ও গাছের কাঁঠালসহ অন্যান্য লাতাপাতা খেতে থাকে। হাতির ভয়ে সবাই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগের ডিএফও আ.ন.ম আবদুল ওয়াদুদ রাত সাড়ে ১০টায় বুনো হাতি দেখতে কলোনিতে আসেন। তিনি স্থানীয়দের সান্তনা ও সাহস দেন। হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে খবর দেওয়া হয় এসিএফ আবু মুছা শামসুল মুহিত চৌধুরীকে। তিনি রাত ১১টার সময় অস্ত্রধারী ২জন ফরেস্ট গার্ড পাঠান। ফরেষ্ট গার্ড হাতিদের ভয় দেখানোর জন্য কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে হাতি বনে চলে যায়। সবাই ভাবেন রাতে আর হাতি আসবে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ঐ হাতি গুলো আরো ১০/১২টি বুনো হাতি নিয়ে আবার ফরেস্ট কলোনিতে আসে এবং সারারাত অবস্থান নেয়।

ডিএফও আবদুল ওয়াদুদ বলেন বুনো হাতি তাড়ানোর সঠিক কোন ব্যবস্থা নেই। তবে যেসব স্থানে হাতির আনাগোনা বেশি সেসব স্থানে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে মৃদু বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ঐ বৈদ্যুতিক শক শরীরে লাগলে হাতির মৃত্যু হবেনা তবে সে ভয় পাবে এবং ভয়ে ঐ এলাকায় আর নাও আসতে পারে। তবে এটা স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বুনো হাতি কেন লোকালয়ে আসে জানতে চাইলে বন বিভাগের একাধিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, বুনো হাতি কখনো লোকালয়ে যায় না। বরং মানুষই বন্য হাতির জায়গায় যাতায়াত করছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে। বন জঙ্গল উজাড় করে দিয়েছে। বনে কোন পশু খাদ্য নেই। আগে পাহাড়ে বিপুল পরিমান বন্য কলাগাছ ছিল। হাতি ঐ কলা গাছ খেতো। এখন খাবারের সন্ধানে হাতি যেখানে পারছে ছুটে বেড়াচ্ছে। বনে যদি পর্যাপ্ত খাবার পেতো তা হলে বুনো হাতি লোকালয়ে আসতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment