কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধে পেপার মিলে বর্জ্য শোধনাগার বসানোর উদ্যোগ

কাপ্তাই রিপোর্ট –

KPM

কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত এশিয়া বিখ্যাত কর্ণফুলী পেপার মিলে (কেপিএম) ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার) বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ইটিপি স্থাপনের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইটিপি বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। ইটিপি স্থাপন সম্পন্ন হলে কেপিএম থেকে আর কোন তরল বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়বে না আশা করা যাচ্ছে।

স্থানীয় একটি সূত্রমতে কেপিএম থেকে যে পরিমান তরল বর্জ্য নদীতে পড়ছে তার চেয়ে আরো অনেক বেশি তরল বর্জ্য পড়ছে নদী তীরবর্তী অন্যান্য কারখানা থেকে। এ ছাড়াও কর্ণফুলীর তীরে আরো ৩২টি বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলোর তরল ও কঠিন বর্জ্য অনবরত নদীতে পড়ছে। কিন্তু সেসব কারখানার বদলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কর্ণফুলী নদী দূষণের জন্য প্রায় সময় এককভাবে কেপিএমকে দায়ী করা হয়। কেপিএমকে এভাবে নদী দূষণের জন্য এককভাবে দায়ী করা সঠিক নয় বলেও সেই সূত্র দাবী করছে।

এ ব্যাপারে কেপিএম -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খান জাভেদ আনোয়ার বলেন, কর্ণফুলী পেপার মিল কাগজ উৎপাদন করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বিগত প্রায় ৬ দশক ধরে দক্ষতা ও সুনামের সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু নদী দূষনের জন্য যেভাবে কেপিএমকে অভিযুক্ত করা হয় তা সঠিক নয়।

কেপিএম -এর একটি সূত্র জানায়, কেপিএম থেকে নির্গত তরল বর্জ্যে কর্ণফুলী নদী কি পরিমাণ দূষিত হচ্ছে তা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা থেকে কেপিএম কারখানা সংলগ্ন কর্ণফুলী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করা হয়। ঐ পরীক্ষায় কেপিএম থেকে নির্গত তরল বর্জ্যে অতিমাত্রায় নদী দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও কেপিএমের কারণে কর্ণফুলী নদী যাতে সামান্যতম দূষিত না হয় সে জন্য পেপার মিল অভ্যন্তরে ইটিপি বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

এদিকে ইটিপি (তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার) স্থাপন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে সম্প্রতি কেপিএমে আসেন বাংলাদেশ ক্যামিকেল ইন্ডাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)’র পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মো: আলতাফ উদ্দিন শেখ। তিনি ইটিপি স্থাপন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খান জাভেদ আনোয়ার, বিসিআইসির অতিরিক্ত প্রধান রসায়ন বিদ সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ওয়াসার এক্স.ই.এন মাকসুদ আলম, কেপিএমের মহাব্যস্থাপক (উৎপাদন) বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, মহাব্যস্থাপক (প্রশাসন) মো: আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিসিআইসি’র পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মো: আলতাফ উদ্দিন শেখ বলেন কেপিএম যেমন আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ তেমনি কর্ণফুলী নদীও আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আরেকটি ক্ষতিগ্রস্থ হোক এটা আমরা কোনভাবেই চাইবো না। কর্ণফুলী নদী দূষণ ব্যতিরেকে কেপিএমের কাগজ উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, কর্ণফুলী পেপার মিলে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের কাছে কারখানাটি যতটা প্রিয় কর্ণফুলী নদীও তাদের কাছে ঠিক ততটাই প্রিয়। ১৯৫০ সালে কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এই কর্ণফুলী পেপার মিল। কর্ণফুলী নদী এবং কর্ণফুলী পেপার মিল নামের কারণে নদী ও কারখানাটি মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। কর্ণফুলী পেপার মিলে উৎপাদন দিতে গিয়ে কর্ণফুলী নদী কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটা কোনভাবেই হতে দেবে না বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment