বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Mahbub

মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মানুষ। তিনি সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতানার প্রদীপ জ্বালাতে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করে গেছেন। তার এই স্মরণসভায় সবার এই অঙ্গীকার হোক তার দীর্ঘদিনের যে লালিত স্বপ্ন একটি অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য চট্টগ্রাম, সেটা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

অদ্য (২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় রাঙ্গামাটি পাবলিক কলেজ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক মাহবুবুর রহমানের নাগরিক শোক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

নাগরিক শোক সভার প্রস্তুতি পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত মাহবুবুর রহমানের স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো: শহিদুল্লাহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন উপমন্ত্রী মনি স্বপন দেওয়ান,  স্থানীয় সরকার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান, পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম, তবলছড়ি বাজার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জহির আহম্মদ সওদাগর, জাতীয় পাটি রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি হারুন মাতব্বর, কমিউনিষ্ট পার্টি রাঙ্গামাটির সভাপতি কমরেড সমীর কান্তি দে, জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিটজ এর সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, রোভার স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, প্রয়াত মাহবুবুর রহমানের বড় ছেলে মেহেদী আল মাহবুব প্রমুখ।

শোক সভায় শোকপত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অঞ্জুলিকা খীসা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মাহবুবুর রহমান স্মরণে নাগরিক শোকসভা প্রস্তুতি পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ বেতারের ঘোষিকা শিখা ত্রিপুরা ও সাংস্কৃতিক কর্মী সৈকত রঞ্জন বাবু।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রয়াত মাহবুবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি যুদ্ধ করেও মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করেননি। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনোই তার কৃতিত্বের কথা কাগজে কলমে দাখিল করে বলেন না। কিন্তু আমাদের দেশে এখন অনেকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে নানা ভাবে সরকারি সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন। বক্তারা বলেন, মাহবুবুর রহমান ছিলেন একজন অতি সাধারণ মানুষ। অস্ত্র কাঁধে নিয়ে যুদ্ধ করেও তিনি তার সনদপত্র গ্রহণ করেননি। সনদপত্র গ্রহণ করার জন্য তাকে অনেকবার বলা হয়েছে। তিনি প্রতি উত্তরে বলেছেন ‘আমি যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য, সনদ পত্র গ্রহণ করে সাহায্য গ্রহণের জন্য নয়’।

মাহবুবুর রহমান ছিলেন পার্বত্য রাঙ্গামাটির জন্য একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তিনি সমাজের প্রতিটি সেক্টরে তার হাতের ছোঁয়া রেখে গেছেন। তার হাত ধরে পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে অনেক উন্নয়ন মুখী সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সংগঠনকে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করে গেছেন। তার এই অবদানের কথা পার্বত্যবাসী চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি পরবাসী হলেও পার্বত্য বাসীর হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে।

শোক সভায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment