‘ভূমি কমিশন কার্যকর হলে বাঙালিদের উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা সম্পূর্ণই অমূলক’

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Land commission

‘পার্বত্য ভূমি কমিশন কার্যকর হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরা সকলেই নিজস্ব ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবেন এ ধরনের ধারণা সম্পূর্ণই অমূলক। কেননা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে বলা আছে এ কমিশন শুধুমাত্র বিরোধপূর্ণ ভূমির বিষয়ে নিষ্পত্তিমূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) আনোয়ার উল হক রোববার রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

রাঙ্গামাটির সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত কয়েক ঘন্টা ব্যাপী বৈঠকে পার্বত্য ভূমি কমিশনের  চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক ছাড়াও কমিশনের সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (রাজস্ব) মোমিনুর রশীদ আমিন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, মং সার্কেলের চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, বোমাং সার্কেলের প্রতিনিধি সচিং প্রু উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে,পার্বত্য এলাকায় ভূমি বিরোধ বিষয়ে নতুন করে দরখাস্ত আহ্বানসহ কমিশনের বাজেট, লোকবল নিয়োগ ও কর্ম পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ভূমি কমিশনের বৈঠক শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী পার্বত্য ভূমি কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল সাংবাদিকদের আরো বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন পার্বত্য এলাকার সকল সম্প্রদায়ের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে।

সন্তু লারমা সাংবাদিকদের বলেন, সংশোধিত আইনের আলোকে আজকের ভূমি কমিশনের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কমিশনের কাজের ও কার্যপদ্ধতি কি হবে, বাজেট, লোকবল নিয়োগ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ভূমি কমিশন আইনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান যে ভূমি সমস্যা, তা নিরসন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, পার্বত্য চুক্তির সাথে যে ধারাগুলো অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল সেগুলো প্রধানমন্ত্রী দূর করেছেন। এখানে নতুন পুরাতন বিষয়ের উপর হিসাব না করে ২০০১ সালের আইনের আলোকে কমিশন তার কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, বৈঠকে কমিশনের ভবিষ্যতে কি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে, কমিশনের জনবলসহ সার্ভেয়ার নিয়োগ, পার্বত্য জেলায় ভূমি কমিশনের শাখা অফিস করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment