রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

bketu

আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর ২০১৬ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে ৪৩তম কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্বে করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সবির কুমার চাকমা, নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ, পুলিশ প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) চিত্ত রঞ্জন পাল, স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা: স্নেহ কান্তি চাকমা, জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য উদয়ন চাকমা, টিটু চাকমা, রনেল চাকমা, রনেন্দ্র চাকমা রিন্টু’সহ সেনা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, বিদ্যুৎ বিতরণ, উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিগত বছরের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা এবং উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর কঠিন চীবর দানোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গৃহীত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সভায় উপস্থাপন করা হয়।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বৃহৎ এ উৎসব কঠিন চীবন দান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং আগত পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে আইন শৃংখলা বাহিনীকে সড়ক ও নৌ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী টহলের ব্যবস্থা গ্রহণ ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেক করা, যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ট্রাফিক মোতায়েন, সমগ্র এলাকায় আইন-শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্য বিভাগকে মেডিকেল টিম ও এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা, পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, সেনিটারি ল্যাট্রিনসমূহের দ্বারা বায়ু দুষণের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রধানকে চেয়ারম্যান অনুরোধ জানান।

বৃহৎ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য রাঙ্গামাটির রাজ বনবিহার পরিচালনা কমিটিকে পরিষদ হতে ১লক্ষ ৯০হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানমালায় আগামী ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বেইন কর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণ, ৩টা ১মিনিটে বেইন ঘর উদ্বোধন, ৩টা ১১মিনিটে চরকায় সূতা কাটা উদ্বোধন, বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সূতা লাগানো শুরু, সন্ধ্যা ৬টা ১মিনিটে সূতা সিদ্ধ ও রং করা শুরু, ৭টা ১মিনিটে সূতা টিয়ানো শুরু, রাত ৮টায় সূতা শুকানো শুরু, ৮টা ৩০মিনিটে সূতা তুম ও নীল করা শুরু এবং রাত ১০টা ১মিনিট থেকে ১১নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বেইন টানা ও বেইন বুনা হবে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ১১নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তেলন, ৬টা ১মিনিট থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত কঠিন চীবর সেলাই, সকাল ৬টা ১০মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, সকাল ৯টায় পরম পূজ্য বনভন্তের প্রতিচ্ছবিসহ পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের মঞ্চে আগমন ও আসন গ্রহণ, ৯টা ১০মিনিটে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, ৯টা ২০মিনিটে পঞ্চশীল গ্রহণসহ বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, ১১টায় ভিক্ষুসংঘকে পিন্ডদান, দুপুর ১২টা ৩০মিনিটে শোভাযাত্রা সহকারে কঠিন চীবর ও কল্পতরু মঞ্চে আনায়ন, বেলা ২টায় অতিথিবৃন্দের অনুষ্ঠান মঞ্চে আসন গ্রহণ, ২টা ২০মিনিটে ভিক্ষুসংঘ মঞ্চে আগমন ও আসন গ্রহণ, ২টা ২৫মিনিটে ধর্মীয় সংগতি পরিবেশন, ২টা ৩০মিনিটে পঞ্চশীল গ্রহণ, ২টা ৫০মিনিটে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিস্কার দান, কল্পতরু দান, কঠিন চীবর দান ও দানোৎসর্গ, বিকাল ৩টায় বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, ৩টা ১০মিনিটে বনবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের স্বাগত বক্তব্য, ৩টা ২০মিনিটে অতিথিবৃন্দ ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক (চাকমা রাজা)’র বক্তব্য, ৩টা ৪০মিনিটে পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের ধর্মদেশনা, বিকাল ৪টায় পরম পূজ্য শ্রাবকবুদ্ধ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ধর্মদেশনা (ক্যাসেট হতে) ও সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ পূজা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment