তিন দিন ক্লাস বর্জনের ঘোষণা

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

press

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের উপর দফায় দফায় সন্ত্রাসী কায়দায় বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্তৃক অতর্কিত হামলা, মারধর, হুমকি এবং পাহাড়ি ছাত্রীদের উপর ইভটিজিং করার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পাহাড়ি শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আজ রবিবার (০২ অক্টোবর ১৬) বিকাল ৫টায় খাগড়াছড়ি টং রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র তপন চাকমা। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের বিএসএস ২য় বর্ষের ছাত্র সুজেশ চাকমা, অনার্স ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র অংহ্লাউ মারমা ও কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র সুব্রত ত্রিপুরা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের  সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের তপন চাকমা বলেন, সরকারি কলেজের বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা এসএম মাসুম রানা ও মাঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে বহিরাগত লোক নিয়ে বিভিন্ন সময়ের কলেজের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড়ি ছাত্রদের উপর অতর্কিত হামলা, মারধর, হুমকি ও পাহাড়ি ছাত্রীদেরকে ইভটিজিংয়ের মত ঘটনা ঘটালে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ প্রশাসনকে বার বার অবগত করলেও কলেজ প্রশাসন বাঙালি ছাত্র পরিষদে চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি অবিলম্বে বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্তৃক এযাবৎকালে কলেজের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা, মারধর, হুমকি ও পাহাড়ি ছাত্রীদেরকে ইভটিজিংয়ের মত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করে চিহ্নিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কলেজের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ কলেজের গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কলেজ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামীকাল ৩ অক্টোবর ২০১৬ থেকে ৬ অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত তিন দিন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের শ্রেণী কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা করেন এবং পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য গৃহীত কর্মসূচি পালন করতে কলেজের সকল শিক্ষার্থী ও অভিবাবকের প্রতি আহ্বান জানান।

নিচে সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য উল্লেখ করা হল:
“পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখুন”
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের উপর দফায় দফায় সন্ত্রাসী কায়দায় বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্তৃক অতর্কিত হামলা, মারধর, হুমকি এবং পাহাড়ি ছাত্রীদের উপর ইভটিজিং করার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন –
০২ অক্টোবর ১৬, টং রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টার, খাগড়াছড়ি।

সম্মানিত সাংবাদিক বৃন্দ,
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত সকল পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ হতে শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আজ ০২ অক্টোবর ২০১৬ ইং, রোজ রবিবার, আমরা বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।

আপনারা জানেন, একটি কলেজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিচরণ ও মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্র। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা জ্ঞানার্জনের জন্য পদার্পন করে থাকে। জ্ঞান আহরণের জন্য চাই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষকের অসাম্প্রদায়িক মনোভাব। যদি শিক্ষার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকে এবং শিক্ষকরা যদি সৌহার্দ্যপূর্ণ না হয় তাহলে সেখানে মুক্ত চিন্তায় শিক্ষার্থীরা গড়ে উঠতে পারে না। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে একটি কলেজে শিক্ষা গ্রহণের জন্য যে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো থাকা দরকার সেই পরিবেশ কলেজে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে কোন গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। কলেজ ক্যাম্পাস আজ যেন বাঙালি ছাত্র পরিষদের মৃগয়া ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে বাঙালি ছাত্র পরিষদ নামধারী বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য। তারা প্রতিনিয়ত পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চালাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি মূলক কর্মকান্ড। এতে  শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় পাঠে মনোনিবেশ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

আজ শিক্ষার্থীরা কলেজে স্টাডি সার্কেল করতে পারে না, কলেজে বসে আড্ডা দিতে পারে না। প্রতিবারেই বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা বাধাগ্রস্ত করছে ছায়া প্রশাসনের মতো। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হুমকিসহ শারীরিক নির্যাতন। আমাদের শিক্ষকরাও তাদের এহেন ক্রিয়াকলাপ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

এছাড়াও বাঙালি ছাত্র পরিষদ নেতা- এসএম মাসুম রানা (বর্তমান ২ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর) অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন নকল করার সময় ধরা পড়লে দর্শন বিভাগের শিক্ষক জেবিন চাকমাকে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অপদস্থ ও হুমকি দিয়েছিল।

নিচে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্তৃক সম্প্রতি সংগঠিত ঘটনার কিছু বিবরণ উল্লেখ করা হলো-

১. ২৪ জুলাই ২০১৬ মাঈনউদ্দিন এর নেতৃতে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মী ও বহিরাগতরা ক্লাশে ঢুকে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হুমকি দেয়।

২. ২০ আগষ্ট ২০১৬ মো: আরমান ভূইয়া এক পাহাড়ি ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং প্রস্তাবে রাজি না হলে জোরপূর্বক ছবি তুলে ফেইসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

৩. ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ একাদশ শ্রেণীর ছাত্র শিষ্ট চাকমা ও তার সহপাঠী রিপ রিপ চাকমা বাঙালি ছাত্র পরিষদ কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন।

৪. ০১ অক্টোবর ২০১৬ অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র অংহ্লা মারমাকে মারধর করে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা।

৫. আজ ০২ অক্টোবর ২০১৬ সকাল ১১ টার দিকে বাঙালি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ২০-৩০ জন নেতাকর্মী পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের হুমকি দেয়। পরে সাধারণ ছাত্ররা জড়ো হয়ে শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে আসে এবং পরে শিক্ষকবৃন্দ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন।

কর্মসূচি ঘোষণা: আগামী ৩ অক্টোবর ২০১৬ থেকে ৬ অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত কলেজের ক্লাস বর্জন করা হবে।

আমাদের দাবি সমূহ:
১.    খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে শিক্ষার গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
২.    জাতি, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩.    আইন- শৃঙ্খলা রক্ষার নামে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও শিক্ষার্থীদের উপর হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৪.    পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চিহ্নিত হামলাকারী এসএম মাসুম রানা ও মাঈনউদ্দিনসহ সংগঠিত ঘটনার সাথে জড়িতদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

মিডিয়ার সকল কর্মী-বন্ধুদের আন্তরিক সহযোগিতাসহ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য আহ্বান করছি।

আয়োজনে : খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পাহাড়ি শিক্ষার্থীবৃন্দ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment