পার্বত্য চট্টগ্রামে বন জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

বিদ্যমান পরিস্থিতির বিভিন্ন কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন সুরক্ষা ও বন জরিপ বিষয়টি অনেকটা স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় বন জরিপ বিষয়ে নানা জনের নানা মত ও সন্দেহ থাকতে পারে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে জনগণকে পরিস্কার ধারণা দিয়ে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সারা দেশে ‘বন সুরক্ষা ও বন জরিপ-২০১৬, বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এ কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন বিভাগের রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মো. শামসুল আজমের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে দিনব্যাপী ‘বন সুরক্ষা ও বন জরিপ-২০১৬ বাংলাদেশ’ শীর্ষক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান, রাঙ্গামাটি সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহবুবন নবী, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বন বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃংখলা সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ মিডিয়াকর্মীরা অংশ নেন।

চলতি বছর নভেম্বর শুরু হওয়া এ জরিপ কার্যক্রম কাজ চলবে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। সারা দেশে ‘বৃক্ষ ও বন জরিপ-২০১৬ বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার।

প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য এলাকায় চলমান সমস্যার কারণে অনেকের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি। তাই এই আস্থার প্রতিফলন ঘটনো দরকার। আর আস্থার প্রতিফলন ঘটানো গেলে পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি বন জরিপ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিনিধিসহ সার্কেল চিফ, মৌজা হেডম্যান, কারবারি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও, ইউএসএআইডি এবং সিলভাকার্বন এর সহায়তায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এ জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বন ও গ্রামীণ বন এলাকার বনজ সম্পদ, বনের পরিমাণ, বনের আচ্ছাদন, গাছের প্রজাতি, কাঠ ও জ্বালানি কাঠের পরিমাণ এবং বন হতে পাওয়া সুবিধাদি নিরূপণের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী এই বৃক্ষ ও বন জরিপ পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর পার্বত্য জেলায় বন সুরক্ষা ও বন জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জলাবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বনজ সম্পদের সুরক্ষা, সর্বোত্তম ব্যবহার, বনের আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বন মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী সরকারি বন ও বন বহির্ভূত বৃক্ষ (গ্রামীণ বন) জরিপ চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment