বনভান্তের ৯৮তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সমন্বয়সভা

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

যথাযোগ্য মর্যাদায় পরিনির্বাণ প্রাপ্ত শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)র ৯৮তম জন্ম বার্ষিকী আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে আগামী ২ জানুয়ারি হতে ৮ জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত ৮ দিন ব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্বে করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আবদুস সামাদ, রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা: স্নেহ কান্তি চাকমা, পরিষদের জন সংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা, রোভার স্কাউটস এর সম্পাদক নূরুল আবছার, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রশীদ, রাঙ্গামাটির রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সুভাষ বড়ুয়া, দীপক খীসা, সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসা, নির্বাহী সদস্য রনেন্দ্র চাকমা রিন্টু’সহ সেনা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ বিতরণ, পৌরসভা, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিগত বছরের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা এবং উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর পরিনির্বাণ প্রাপ্ত শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে) -এর ৯৮তম জন্ম বার্ষিকী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় রাজ বন বিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গৃহীত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সভায় উপস্থাপন করা হয়।

শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) এর ৯৮তম জন্ম বার্ষিকী সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এবং আগত পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে আইন শৃংখলা বাহিনীকে সড়ক ও নৌ পথের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ব্যবস্থা গ্রহণ ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেক করা, যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ট্রাফিক মোতায়েন, সমগ্র এলাকায় আইন-শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বাস্থ্য বিভাগকে মেডিকেল টিম ও এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা, সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, পানি সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, সেনিটারি লেট্রিনসমূহের দ্বারা বায়ু দুষণ এর বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের প্রধানকে বিহার পরিচালনা কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য চেয়ারম্যান অনুরোধ জানান। তিনি বনভন্তের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী সুস্থভাবে পরিচালনা করতে বন বিহারের কার্যনির্বাহী পরিষদকে জেলা পরিষদ হতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে ২ জানুয়ারি পরমপূজ্য বনভন্তের জন্ম স্থান মুরোঘোনায় পূজ্য ভান্তের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ৩ জানুয়ারি হতে ৫ জানুয়ারি ৫ দিনব্যাপী সদ্ধর্ম পূজা (ত্রিপিটক পূজা) এবং ত্রিপিটক পাঠ উদ্বোধন,  ৩ জানুয়ারি হতে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকাল ৪টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভিক্ষু সংঘের ত্রিপিটক পাঠ ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং ৮ জানুয়ারি পরমপূজ্য বনভান্তের ৯৮তম জন্মদিন উদযাপন করা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment