বান্দরবানে তিন দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাজপূণ্যাহ শুরু

বান্দরবান রিপোর্ট –

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে বান্দরবানে তিন দিন ব্যাপী ১৩৯তম রাজপূণ্যাহ শুরু হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজার মাঠে অনুষ্ঠিত রাজপূন্যাহ মেলার উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

১৭তম রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন এমপি, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়ার মেজর জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, বান্দরবান জোন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: সাখাওয়াত হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য স্নেহ কুমার চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, হেডম্যান (মৌজা প্রধান), কার্বারীসহ (পাড়া প্রধান) অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরের দিকে রাজ দরবার থেকে রাজার পাইক পেয়াদা ও সৈন্যসহকারে আগত অতিথিদের নিয়ে ১৭তম রাজা বোমাংগ্রী উ চ প্রু মঞ্চে আগমন করেন। সেখানে বোমাং রাজাকে ফুল ছিটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে রাজকীয় এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাহাড়িদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন। কারো হাতে দেশী মোরগ, কারো হাতে বিনি চালের পিঠা। আবার কারো হাতে দেশীয় তৈরি চোলাই মদ। এসব উপকরণ লোকেরা এনেছেন রাজাকে উপহার হিসাবে দেয়ার জন্য।

এসময় বোমাং রাজার মাঠে তখন হাজারো মানুষের ভিড়ের সমাগম ঘটে। দেশি-বিদেশী পর্যটক ছাড়াও স্থানীয় লোকেরা ভিড় জমিয়েছেন রাজ খাজনা আদায় অনুষ্ঠান দেখতে। অনুষ্ঠানটি দেশি-বিদেশী পর্যটক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। এ রাজ পূণ্যাহ মেলা আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্ষন্ত চলবে।

এদিকে রাজপূণ্যাহ মেলাকে ঘিরে বসেছে নানা রকমের দোকান, নাগরদোলা, মৃত্যুকূপ, পুতুল নাচ, যাত্রা, সার্কাস ইত্যাদি।

সভাপতি বক্তব্যে বোমাং রাজা উ চ প্রু বলেন, এই অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই শান্তি-সম্প্রীতিতে বসবাস করতে হবে। শান্তির জন্য যা যা করা দরকার সবকিছু করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি, এদেশের মতো মাটি কোথাও দেখিনি। ১২ মাস উৎপাদন হয়, চাষ করা যায়। এছাড়া তিনি আগত অতিথিদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তিন পার্বত্য জেলার মতো সৌন্দর্য দেশের আর কোথাও নেই। আজ হোক কাল হোক এই সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে যে ট্রাডিশন রয়েছে তা বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই অঞ্চলে যে ভূমিকর প্রথা চালু আছে, তা চলমান থাকবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটেছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তির আগে এমন সমাগম কল্পনা করা যায় না। এই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাগম ঘটার পেছনে আছে জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান। তিনি চেয়েছেন বলেই পাহাড়ে শান্তির বাতাস বইছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে গঠিত বান্দরবান বোমাং সার্কেল। রাজপূণ্যাহ অনুষ্ঠান প্রবর্তিত হয় ১৮৭৫ সালে। বোমাং সার্কেলের নবম রাজা সাক হৃ ঞো এ অনুষ্ঠানের প্রবর্তন করেন। সেই থেকে বোমাং সার্কেলে ধারাবাহিকভাবে রাজপূণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসছে। বছরের একটি দিনে রাজ কোষাগারে খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে বসে ঐতিহ্যবাহী এ রাজপূণ্যাহ মেলা।

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment