প্রথাগত বিদ্যমান আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সেমিনার

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ উদ্যোগে ‘‘প্রথাগত বিদ্যমান আইনসমূহ ও বাস্তবায়ন – প্রেক্ষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম” বিষয়ক সেমিনার মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটি আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রোগ্রেসিভ -এর নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা ও বিশেষ অতিথি সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সহ-সভাপতি প্রেমলাল চাকমা, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিতা চাকমা বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে মূল ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নারী আইনজীবী এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট কক্সী তালুকদার।

উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, হেডম্যান শান্তি বিজয় চাকমা, নারী নেত্রী নুকু চাকমা, হেডম্যান এসোসিয়েশনের থোয়াই অং মারমা, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক সুখেশ্বর চাকমা ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা।

সেমিনারে বক্তারা বলেন- জাতিগত নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিভিন্ন কারণে ভিন্ন সংস্কৃতির আদিবাসী পাহাড়ি নারীরা সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এ কারণে প্রতিনিয়ত পাহাড়ি নারীরা ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। বক্তরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি জনগোষ্ঠীর কোন লিখিত প্রথাগত আইন নেই। যুগ যুগ ধরে জনগোষ্ঠীগুলোর সমাজে ব্যবহৃত প্রাচীন রীতিনীতি প্রথাগত আইন হিসেবে মৌখিকভাবে প্রচলিত হয়ে আসছে। সমাজের বিবর্তনের ধারায় যুগের দাবীতে অনেক প্রাচীন প্রথা ও রীতিনীতি বর্তমানে পরিবর্তিত হযেছে। তথাপি পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ও ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক অনেক প্রথা ও রীতিনীতি পাহাড়ি সমাজে এখন আর নেই বললে চলে। বক্তরা বলেন, পূর্বে আদিবাসী সমাজে বিয়ে নিবন্ধনের কোন রীতি ছিল না এবং বিয়ের কোন লিখিত দলিল তৈরী করা হয় না। বর্তমানে প্রথাগত আইন কিছুটা সংস্কারের মধ্য দিয়ে এর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে এবং অনেক মৌজায় বিবাহ নিবন্ধন প্রচলিত হয়েছে। বক্তারা পাহাড়ি নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করতে আদিবাসী নারীর সমঅধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথাগত আইন বিশ্লেষণ করে যুগোপযোগী করা, আদিবাসী পাহাড়ি সমাজে বিবাহ রেজিষ্ট্রেশনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা, আদিবাসী পুরুষের বহু বিবাহ বন্ধ করার জন্য প্রথাগত আইনে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করা, আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতা বন্ধের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

সেমিনারে হেডম্যান, নারী উন্নয়ন সংগঠনের নেত্রী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সাংবাদিক অংশ গ্রহণ করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment