পিসিপি’র রামগড় উপজেলা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন

২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

“পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত দমন-পীড়ন ও অন্যায়ভাবে ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, শাসক গোষ্ঠীর জাতি ধ্বংসের নীলনক্সা ভেস্তে দিতে ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র সমাজ পিসিপি’র পতাকাতলে সমবেত হোন” এই আহ্বান সম্বলিত স্লোগানে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) -এর রামগড় উপজেলা শাখার প্রথম কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে।

আজ রোজ বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর ২০১৬) সকাল ১০টায় রামগড় উপজেলা সদর এলাকায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিল অধিবেশন শুরুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কাউন্সিলে নরেশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রামগড় কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আথৈইসে মার্মা।

সেমন্ত ত্রিপুরার সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ -এর রামগড় উপজেলা সংগঠক হরি কমল ত্রিপুরা, পিসিপি’র কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক সমর চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রামগড় উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু মার্মা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ জন্মলগ্ন থেকে শাসক গোষ্ঠীর সকল চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আজ তেজদীপ্ত সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ২৭ বছর পাড়ি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে পিসিপি পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সংখ্যালঘু জাতিসত্তাসমূহকে ধ্বংস করার জন্য নিত্য নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে। গতকাল রাতের আধারে রামগড়ে এক মার্মা গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উন্নয়নের নামে সরকার পাহাড়িদের উচ্ছেদ করছে। সরকার বিজয় দিবসের মত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনে পাহাড়ি গ্রামে হামলা চালায়, অন্যদিকে বিজয়ের মাসে ‘বিজয় মেলার’ নামে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করছে। পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা ও ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমাসহ অনেক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কারাগারে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী পাড়ায় পাড়ায় রাতের আঁধারে ঘরবাড়ি তল্লাশিসহ সাধারণ জনগণকে নানা হয়রানি করছে।

বক্তারা সরকারের সকল নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল স্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে কাউন্সিল অধিবেশনে সবার সম্মতিক্রমে সেমন্ত ত্রিপুরাকে সভাপতি, নরেশ ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও কিশোর ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন কমিট গঠন করা হয়।

নতুন কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক রতন স্মৃতি চাকমা।

বার্তা প্রেরক –

বাবুচান চাকমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
রামগড় উপজেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment