২০১৬ সালের মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউপিডিএফ

৪ জানুয়ারি ২০১৭
প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) -এর মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল ২০১৬ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। আজ ৪ জানুয়ারি ২০১৭ বুধবার মিডিয়ায় প্রকাশিত উক্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ইউপিডিএফের কমপক্ষে ৭৩ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে, ২১ জন পাহাড়ি নারী ও শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণ প্রচেষ্টা অথবা অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং সেটলার কর্তৃক ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বের প্রবল সামরিকায়িত অঞ্চলগুলোর একটি উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, ‘গত চার দশকের অধিক সময় ধরে এই অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একচেটিয়া দখল দারিত্ব ও কর্তৃত্ব বজায় রয়েছে। যে কোন সামরিকায়িত অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায়ও এ কথা সর্বাংশে সত্য। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির আগ পর্যন্ত তথাকথিত কাউন্টার-ইন্সার্জেন্সি বা বিদ্রোহ দমনের অজুহাতে ব্যাপক সেনানিপীড়ন চালানো হয়েছিল। বর্তমানে সশস্ত্র সংগ্রাম না থাকার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্বের মতোই বিশাল সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে। অপারেশন উত্তরণের বলে এখানে তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ এবং তাদের কাছে বেসামরিক প্রশাসনও জিম্মি। অপরদিকে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক মানবাধিকার নির্বাসিত। বেআইনী আটক, গ্রেফতার, শারীরিক নির্যাতন, গ্রামে গ্রামে হানা ও বাড়িঘরে তল্লাশী, হয়রানি, মিথ্যা মামলা, সভা সমাবেশে বাধা দান, হামলা, নারী ধর্ষণ, ভূমি বেদখল, সাম্প্রদায়িক হামলা ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে।’

পরিবীক্ষণ সেলের সংকলিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ নয় উল্লেখ করে রিপোর্টে আরো বলা হয়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে এই মানবাধিকার লঙ্ঘন বিচ্ছিন্ন কোন ব্যাপার নয়। এগুলো প্রকৃত অর্থে পাহাড়ি জাতিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের এথনিক ক্লিনজিং নীতিরই ফল। পাহাড়ি জাতিগুলোকে নিজ জন্মভূমিতে ধীরে ধীরে প্রথমে সংখ্যালঘু ও পরে একেবারে নিশ্চিহ্ন করাই হলো অঘোষিত রাষ্ট্রীয় নীতি। তাই দেখা যায় যেখানে ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি বাঙালির অনুপাত ৯৮ : ২, বর্তমানে তা ৫২ : ৪৮ এ দাঁড়িয়েছে। তবে পার্বত্য চুক্তির পর গত ১৯ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে শহরাঞ্চলে এবং বিশেষত জেলার পৌরসভাগুলোতে জনমিতির ভারসাম্য মৌলিকভাবে বদলে গেছে। উদহারণ স্বরূপ, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পৌরসভায় চুক্তির পূর্বে পাহাড়িরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। বর্তমানে এই দুই পৌরসভায় দুই তৃতীয়াংশ ভোটার হলেন বাঙালি। বান্দরবান পৌরসভায় এই অনুপাত আরও বেশী, সেখানে প্রায় পাঁচ ভাগের চারভাগই বাঙালি। এই অনুপাতগুলো যে কোন জাতির জনগণকে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে শঙ্কিত না করে পারে না। অথচ এরপরও বাঙালি অনুপ্রবেশ থেমে নেই এবং এই ধারা রোধ করা না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ হয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না।’

সরকারের সমালোচনা করে রিপোর্টে বলাহয়, ‘সরকার মুখে পাহাড়ি জনগণের অধিকারের কথা বললেও বাস্তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি ব্যাপারে যথেষ্ট উদাসীন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি। গত ২০ বছরেও কল্পনা চাকমার অপহরণকারী লে. ফেরদৌস ও তার সহযোগীদের বিচার ও শাস্তি হয়নি। মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত থাকার এটাও অন্যতম কারণ। তবে মোট কথা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার ও সেটলারদের সরিয়ে সমতলে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা যায় না।’
বার্তা প্রেরক –

দ্বিতীয়া চাকমা
সদস্য
মানবাধিকার পরীবিক্ষণ সেল
ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment