কালের আয়নায়

আওয়ামী লীগ যেন বিধির সঙ্গে লড়াই শুরু না করে

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –

বিএনপিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে দেয়নি সরকার। না সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, না তাদের দলীয় অফিসের সামনে। সরকার এ ব্যাপারে জননিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়েছে। বলেছে, সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমা হামলায় যে রেকর্ড বিএনপির রয়েছে, তাতে জননিরাপত্তার প্রশ্নে কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে পারে না। বিএনপি সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বলেছে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় ভবিষ্যতে তারা সভা-মিছিল করার ব্যাপারে সরকারি অনুমতি আর না-ও চাইতে পারে। এটা আবার সংঘর্ষে যাওয়ার হুমকি। কিন্তু বর্তমানে এই সংঘর্ষে যাওয়ার শক্তি বিএনপির আছে কি?

প্রথমে বিএনপির কথায় আসি। তারপর সরকারি সিদ্ধান্তের কথায় আসব। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির যে নির্বাচনে বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসেছিল, বিএনপি তা বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সন্ত্রাস দ্বারা নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। সন্ত্রাস চালিয়ে কোনো কাজ হয়নি। সরকার ক্ষমতায় বহাল তার পর তিন বছর ধরে। বিশ্বের ছোট-বড় সব দেশ এ সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বরং বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ব্যর্থ আন্দোলনই তাকে একঘরে করেছে।

এখন আরেকটি সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ২০১৯ সালে এই নির্বাচন। বিএনপির এই নির্বাচন বর্জনের ইচ্ছা যে আর নেই, তা এখন স্পষ্ট। ন্যাড়া বেলতলায় ক’বার যায়? রাষ্ট্রপতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাতে বিএনপি সোৎসাহে যোগ দিয়েছে। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচনের পুরনো কাসুন্দি না ঘেঁটে বিএনপির উচিত ছিল নতুন কোনো ইস্যু নিয়ে মাঠে নামা এবং মাঠে নামার জন্য নিজেদের সংগঠিত করা। সে ক্ষেত্রে সরকার বাধা দিলে বলা যেত, সরকার বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু গত নির্বাচনের যে বিষয়টি তামাদি হয়ে গেছে, দেশের জনগণ ও বিদেশের সব রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সেই মড়া কবর থেকে তুলে তার হাড়গোড় নিয়ে আন্দোলন করতে চাইলে তো জনগণ তাতে সাড়া দেবে না। আর সরকারও সেই কথাটি জেনে একটা মৃত ইস্যু নিয়ে কাউকে মাঠে নামতে দিতে না-ও চাইতে পারে।

গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে হলে তো একটা নয়, কয়েকটা দিবসই পালন করতে হয়। জিয়াউর রহমান যেভাবে রক্তাক্ত পথে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তা কি গণতন্ত্র হত্যা নয়? বন্দুকের জোরে রাষ্ট্রপতি সায়েমকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জিয়াউর রহমান যেদিন নিজে রাষ্ট্রপতির পদে বসেছিলেন, সেটা কি গণতন্ত্র হত্যা দিবস নয়? জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি জেনারেল এরশাদ যেদিন বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নির্বাচিত সাত্তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেন অথবা বিচারপতি আহসান উল্লাহকে সরিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হন, সেদিনটিও কি গণতন্ত্র হত্যা দিবস নয়?

খালেদা জিয়া আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। ১৯৯৬ সালে তার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচনের কথা ভাবুন। সেদিন শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। তথাপি তিনি সেই ভোটারবিহীন ভোটে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন। এটা কি জনগণের সঙ্গে একটা বড় ধাপ্পাবাজি ছিল না? জনগণ আন্দোলন করে সেই ধাপ্পাবাজির জবাব দিয়েছে। গণআন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।

২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছে, জনগণ করেনি। নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি একঘরে হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়ে গেছে। বিএনপি চেষ্টা করেছে এ সরকারকে অবৈধ প্রমাণ করতে। জনগণ বিএনপির কথায় বিশ্বাস করেনি। সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে নামেনি। বিশ্বের সব দেশ এ সরকারের বৈধতা স্বীকার করে নিয়েছে। বিএনপি নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করতে চেয়েছে। পারেনি। সেই ব্যর্থতা থেকে কোনো শিক্ষা না নিয়ে বিএনপি মৃত ও জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করতে চায়। এটাতেই প্রমাণ হয়, বিএনপির থলিতে কোনো নতুন রাজনৈতিক ইস্যু নেই। বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব চরমে পৌঁছেছে।

এবার সরকারের সিদ্ধান্তের কথায় আসি। মৃত অথবা জীবিত কোনো ইস্যু নিয়েই বিএনপি শান্তিপূর্ণ সভা করার উদ্যোগে বাধা দিয়ে সরকার ভালো কাজ করেনি। তাতে সরকার যে গণতান্ত্রিক চরিত্রের দাবি করে, তা মলিন হয়েছে। বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দিয়ে সরকার নিজেদের দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার কি বর্তমানের দুর্বল বিএনপিকেও ভয় পায়? বরং এ জনসভার অনুমতি দিয়ে সরকার এটিকে একটি টেস্ট কেস হিসেবে বিবেচনা করতে পারত। বিএনপি নতুনভাবে সংগঠিত হতে গিয়ে যদি আবারও সন্ত্রাসের পথ ধরত, তাহলে সরকার এই দলটির বিরুদ্ধে আরও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ পেত। আর এ ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে দেশবাসীরও অনুমোদন থাকত। জামায়াতের পরাক্রমশালী নেতাদের একের পর এক ফাঁসি দিয়েও সরকার কি জনগণের সমর্থনের জোরেই এখনও ক্ষমতায় টিকে আছে না?

বিএনপি এখন জানুয়ারি মাসে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে চায়। এর আগে তারা জাতীয় নেতাদের জেলের ভেতর হত্যার নিষ্ঠুরতা অগ্রাহ্য করে বিপথগামী সেনা অভ্যুত্থান ও আরও হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানিয়ে ঘটা করে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর তথাকথিত ‘সিপাহি জনতা বিপ্লব দিবস’ পালন করেনি? ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি এই দিবস পালন, খালেদা জিয়ার বিতর্কিত জন্ম দিবস পালন নিয়ে বাড়াবাড়ির চূড়ান্ত করেনি? তাতে জনসাধারণকে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত করা গেছে। কোনো রাজনৈতিক ফায়দা বিএনপি তুলতে পারেনি। বরং দেশের মানুষের কাছে হাস্যাস্পদ ও নিন্দিত হয়েছে।

এখন বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের সমাবেশ ডাকুক না! সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জামায়াতের লোক ও ভাড়াটিয়া শ্রোতা দ্বারা ভরে ফেলুক না। তাতে সরকার শুধু দেখবে- এ সভা-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে কি-না। যদি বিএনপি এ ধরনের সভা-সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করে প্রমাণ দেয় তারা সহিংস রাজনীতির পথে যাবে না, বরং গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বিরোধিতার রাজনীতিতে ফিরে আসছে, তাহলে একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগের উচিত হবে, তাকে স্বাগত জানানো। শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার ও অনুমতি না পেয়ে বিএনপি আবার সহিংস ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে ফিরে যাক, আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চয়ই তা চায় না। বিএনপিকে আবার সন্ত্রাসের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য জামায়াতসহ কিছু হিংস্র মৌলবাদী দল এখনও ওত পেতে বসে আছে। সরকার কি সে কথা জানে না?

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দিলেই তারা আবার হাতবোমা, পেট্রোল বোমার সাহায্যে সন্ত্রাস শুরু করে জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাত- এটা কি সরকারের অনুমান, না গোয়েন্দা বিভাগের হাতে কোনো তথ্য-প্রমাণ আছে? যদি তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে এই সমাবেশের অনুমতি দিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত। গত দু’তিন বছরে আমাদের পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাস দমনে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। লন্ডনে সন্ত্রাসী ও বর্ণবিদ্বেষী বলে পরিচিত হিংস্র ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টিকেও ব্রিটিশ সরকার সভা-সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। কিন্তু পুলিশ পাহারার বিরাট ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার অধিকার হরণ না করে সরকারের উচিত জননিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা।

বাংলাদেশে আমার অনেক রাজনীতিক বন্ধুর ধারণা, গত সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াতের সহযোগিতায় আন্দোলনের নামে বিএনপি লোকালয়ে বোমাবাজি ও নিরীহ মানুষ হত্যা দ্বারা যে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল, তার পরিণতিতেই যে তারা আজ গণবিচ্ছিন্ন এবং সাধারণ মানুষের দ্বারাও প্রত্যাখ্যাত- এই সত্যটা ধীরে হলেও তাদের মাথায় ঢুকেছে। দলের যুবরাজ তারেক রহমানও তাই এখন বিদেশে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। বিএনপি আগের দর্প পরিহার করে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে এবং রাষ্ট্রপতি সব দলের সঙ্গে আলোচনাক্রমে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, তা তারা মেনে নেবে। সন্ত্রাসের বদলে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসতে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী উৎসুক।

বিএনপিকে জামায়াতের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও কর্তব্য। ভারতে চল্লিশের দশকের শেষ দিকে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি যখন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হায়’ স্লোগান তুলে বিপ্লবের নামে সন্ত্রাসের পথ ধরেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নেহরু তাদের কঠোর হাতে দমন করেছেন; কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। আবার কমিউনিস্ট পার্টি যখন হিংসার পথ ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে এসেছে, তখন তাদের নির্বাচনে জয়ী হয়ে কেবল রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমতি ও অধিকার দিয়েছেন- বিশ্বের ইতিহাসে এটাই প্রথম উদাহরণ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে কমিউনিস্ট পার্টিকে রাজ্য সরকার গঠনের অধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি যদি হিংসার পথ ত্যাগ করে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনীতির পথে ফিরে আসে (ইদানীং যার প্রমাণ তারা দিচ্ছে), তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত হবে তাতে সাহায্য জোগানো। দলটিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ না দিয়ে আবার সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না। তাতে দেশ, জাতি এবং গণতন্ত্রের জন্যও নতুন বিপদ দেখা দেবে। বিএনপির হয়তো আন্দোলন করার শক্তি এখন নেই; কিন্তু সন্ত্রাস সৃষ্টির শক্তি আছে। কারণ, আন্দোলন করতে লাগে জনমানুষের সমর্থন আর সন্ত্রাস সৃষ্টি মুষ্টিমেয় দুষ্কৃতি দ্বারাই সম্ভব। আগুন উস্কে দেওয়ার জন্য পাশে দোসর জামায়াত তো আছে। আছে আইএসের মুখোশে ছোট-বড় নানা সন্ত্রাসী দল।

সরকার হয়তো সঙ্গত কারণেই বিএনপিকে তাদের তথাকথিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে দেয়নি। কিন্তু দেশ-বিদেশে এটা সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, আওয়ামী লীগ সরকারও কি তাহলে অতীতের বিএনপি সরকারের কায়দায় দেশ চালাতে চায়? দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের যতই সদিচ্ছা থাক মানুষ ভুল বুঝবে। বিএনপির অতীতের দুষ্কর্মগুলো ভুলে গিয়ে দলটির প্রতি সহানুভূতি দেখাবে। বিএনপি যতই দিবস পালন করুক, তার দ্বারা জনগণের মনে কোনো সমর্থন সৃষ্টি করতে পারবে না। পারবে তখনই, যখন জনগণ দেখবে বিএনপির সভা-সমাবেশ করার সাধারণ অধিকারও সরকার হরণ করছে।

আওয়ামী লীগ চিরদিন নির্যাতন সহ্য করেছে। নির্যাতন করা তার দলীয় চরিত্র নয়- বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে এই সত্যটি স্মরণ রাখতে হবে। কারা আওয়ামী লীগের শত্রুপক্ষ এবং কারা প্রতিপক্ষ, এই পার্থক্যটি আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে। বিএনপির অতীত সরকারগুলো নির্যাতন ও নাগরিক অধিকার হরণ দ্বারা ক্ষমতায় স্থায়ী হয়ে থাকতে চেয়েছিল। ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেন এই ব্যর্থতার শাসনের অনুসরণ না করে।

গণতন্ত্রের ধর্ম হচ্ছে সহিষ্ণুতা ও সমঝোতা। স্বৈরতন্ত্রের ধর্ম ক্ষমতার প্রতাপ দেখানো। ক্ষমতার প্রতাপ দেখানোই স্বৈরতন্ত্রের পতন ডেকে আনে। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল ও সরকার। আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনায় প্রয়োজনে কঠোর হবে। কখনোই ক্ষমতার প্রতাপ বা দাপট দেখাবে না। ব্রিটিশ আমলে ভারতে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার একটি কঠোর আইন করেছিল। রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিবাদে লিখেছিলেন,

প্রতাপ যখন চেঁচিয়ে করে বড়াই

জেনো মনে তখন তাহার বিধির সঙ্গে লড়াই।

আমার একান্ত প্রার্থনা, আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে যত লড়াই করুক, বিধির সঙ্গে যেন লড়াই শুরু না করে। – সমকাল

লন্ডন, ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০১৭

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment