কালের আয়নায়

ট্রাম্প আমেরিকাকে কোন পথে নিয়ে যাবেন?

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –

২০ জানুয়ারি শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অতীতের তুলনায় এক বিস্ময়কর উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউসের সামনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে হাজার হাজার নরনারী। তাদের মধ্যে বহু বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। চরম ডানপন্থিরাও ডোনাল্ডের সমর্থনে ভিড় জমাতে দেরি করেনি। দুই বিপরীত দলের সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। অনুষ্ঠানের পুরো রিপোর্ট হাতে আসার আগেই এই লেখাটা লিখতে বসেছি বলে হোয়াইট হাউসের সামনে ট্রাম্পপন্থি ও ট্রাম্পবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে কি-না অথবা পুলিশ তা ঠেকাতে না পেরে থাকলে জখম হয়েছে কত লোক, তা এখনও জানতে পারিনি।

তার এই অভিষেক অনুষ্ঠানের প্রাথমিক রিপোর্টে জেনেছি, এই অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য টেররিস্ট হামলা ঠেকাতে ওয়াশিংটন ডিসিকে ইস্পাতের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলতে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা হয়েছে। ৩০ হাজার নিরাপত্তা অফিসার ছিলেন সর্বক্ষণ পাহারায়। আমেরিকার ইতিহাসে এমন ঘটনা কি কখনও ঘটেছে যে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে লাখ লাখ নরনারীর নিন্দা ও বিদ্রূপধ্বনি এবং লৌহকঠিন নিরাপত্তার মধ্যে হোয়াইট হাউসে ঢুকতে হয়েছে? এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরেই এই অভাবনীয় ঘটনাটি ঘটল। শুধু আমেরিকার ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও যে ঘটনাটি অচিন্তনীয়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার দিন থেকেই বিশ্বসয় যার বিরুদ্ধে এত ছিঃ ছিঃ ধ্বনি, তিনি বিশ্বের একক সুপারপাওয়ারের নেতৃস্থানীয় পদে তাহলে নির্বাচিত হলেন কীভাবে? তিনি কি কেবল হোয়াইট সুপ্রিম্যাসি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হোয়াইট হাউসকে ‘কালো আধিপত্য’ থেকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখিয়ে সাদা আমেরিকানদের ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন? বিষয়টি নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। এ ব্যাপারে অনেক পশ্চিমা পর্যবেক্ষক এখন মত পাল্টেছেন। তারা বলছেন, কেবল সাদা আমেরিকানদের মনে জিঙ্গোইজম তৈরি এবং বর্ণ ও ধর্মবিদ্বেষ প্রচার দ্বারাই ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হননি। তার জয়ের পেছনে অর্থনৈতিক ইস্যু ছিল, যা সাদা-কালো অনেক সাধারণ মানুষকে, মাঝারি ব্যবসায়ীদেরও ট্রাম্পকে ভোট দিতে আকর্ষণ করেছে।

এই ইস্যু বা ইস্যুগুলো কী? আমেরিকা বাইরে সবার কাছে বলদর্পী সুপারপাওয়ার। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবক্ষয় কোন তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে তা দীর্ঘকাল কারও চোখে পড়েনি। এখন পড়ছে। আমেরিকার আধিপত্যবাদী যুদ্ধনীতি, বিশ্বের সর্বত্র যুদ্ধের বিস্তার, তার ওয়ার ইন্ডাস্ট্রির মুনাফা স্ফীত করেছে, ওয়ার লর্ডদের হাতে বিত্তের পাহাড় জমিয়েছে; কিন্তু আমেরিকার সাধারণ অর্থনীতিতে তলে তলে ঘুণ ধরিয়েছে। যুদ্ধবাজ জর্জ বুশের ‘মূর্খ যুদ্ধবিলাস’ আমেরিকার অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছিল।

ঠিক অনুরূপ অবস্থা ঘটেছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে তার পতনের আগে। আফগানিস্তানে দশ বছর ধরে অনাবশ্যক যুদ্ধ সোভিয়েত অর্থনীতিতে বড় রকমের চিড় ধরিয়েছিল। কমিউনিস্ট সিস্টেমের লৌহ যবনিকার আড়ালে তা ঢেকে রাখা হয়েছিল। চেরনোবিলের আণবিক চুলি্ল কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা সবার কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। দেখা গেল, সামরিক বাহিনীর বেতন জোগানোর মতো অর্থও গরবাচেভ সরকারের হাতে নেই। এই সুযোগে সাহায্যদাতার বেশে আমেরিকা সোভিয়েত ইউনিয়নে ঢুকে পড়ে। পতন ঘটে বিশ্বের দ্বিতীয় সুপারপাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়নের।

গ্গ্নোবাল ক্যাপিটালিজম ও ফ্রি মার্কেটের নেতা আমেরিকায় অনুরূপ কাণ্ড ঘটতে পারে_ তা এখনও কেউ ভাবতে পারছেন না। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে সিনিয়র ও জুনিয়র বুশ_ এই দুই বাপ-বেটার কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ব্যয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নীতি আমেরিকার অর্থনীতিতেও ফাটল ধরিয়েছে। এই ফাটল গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও সাম্প্রতিক দু’দুটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সময় তা ধরা পড়ে যায়।

বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই ফাটল মেরামতের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তার ‘ওবামা কেয়ার’ সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করেছিল (ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই এই স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বাতিল করার চেষ্টা করছেন)। ওবামা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেননি। কিন্তু তার সম্প্রসারণ ঘটতে দেননি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তিনি জড়িত না হওয়ার সাহসী পদক্ষেপ নেন। কিন্তু আমেরিকার হোয়াইট এস্টাবলিশমেন্টের নির্দেশ মেনে চলতে গিয়ে ওবামা জনগণকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির বারোআনাই বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। তাকে অশ্রুসজল চোখে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

আমেরিকার অবস্থাটা এখন কী? বাইরে সে এখনও সুপারপাওয়ার। রুশ নেতা ক্রুশ্চেভের ভাষায়, আমেরিকার এখনও ‘আণবিক দাঁত’ আছে। কিন্তু সে দাঁতে এখন ক্ষয় ধরেছে। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার নব অভ্যুদয়, অর্থনৈতিক ও সামরিক বিগ পাওয়ার হিসেবে চীনের আত্মপ্রকাশ, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভাব কথায় কথায় অন্য দেশকে আমেরিকার চোখ রাঙানি অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছে। আমেরিকার সামরিক শক্তি আছে; কিন্তু তার অর্থনৈতিক শক্তি ক্ষয় এখন ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থা সম্পর্কে কলামিস্ট এন্থনি হিল্টন লন্ডনের একটি পত্রিকায় গত বৃহস্পতিবার তার কলামে লিখেছেন, আমেরিকার মতো ধনী দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে যে কোনো ভ্রমণকারী আহত হবেন। দরিদ্র অর্থনৈতিক অবকাঠামো, গর্তভর্তি রাস্তা, অরাজক রেল চলাচল, ভিড় ঠাসা এয়ারপোর্ট, ভেঙে পড়া সেতু এবং আরও কত কী।

কেউ কেউ বলছেন, প্রথম মহাযুদ্ধের পর যুদ্ধ-ঋণগ্রস্ত জার্মানির ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্যাভাব, বিশাল বেকারত্ব ইত্যাদির সুযোগ নিয়ে হিটলার সব সমস্যা সমাধানের রঙিন ফানুস তৈরি করে জার্মানিতে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। বর্তমান আমেরিকাতেও তেমনি হোয়াইট সুপ্রিম্যাসি তথা সাদা আমেরিকার পতনের আশঙ্কা তৈরি করে এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে আমেরিকাকে মুক্ত করার স্বপ্ন আর্থিকভাবে ক্লিষ্ট সাধারণ মানুষকে দেখিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস দখল করেছেন।

এই স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি-না সেটা অন্য কথা। যদি না পারেন, তাহলে এই বিরাট ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য তিনি বড় কোনো যুদ্ধে আমেরিকাকে জড়াতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বর্তমানের মিত্র পুতিনের রাশিয়া তার টার্গেট হলে বিস্ময়ের কিছু নেই। তাতে তিনি একদিকে এস্টাবলিশমেন্টের বিরূপ অংশকে খুশি করবেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকেও অন্যদিকে ফেরাবেন।

সম্প্রতি নয়া চীনের প্রেসিডেন্টের এক বক্তব্যের দিকে সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। তিনি বিস্ময়করভাবে গ্নোবাল ক্যাপিটালিজম ও ফ্রি মার্কেটকে রক্ষার ব্যাপারে জোরালো সমর্থন দিয়েছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বিশ্বকে কোন পথে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই উদ্বেগ পশ্চিমা শিবিরেরও। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এটা এখন বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় এবং সবচেয়ে খারাপ সময়ও। কারণ, আমরা এখন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক এক বিশাল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানের পরিবর্তনের গতি এত তীব্র যে, তা আগে কখনও দেখা দেয়নি।’

গ্নোবাল ক্যাপিটালিজম এবং ফ্রি মার্কেট এই দ্রুত পরিবর্তন এড়াতে পারছে না। এখানেই পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক বিশ্বের শঙ্কা এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির অনুসারী কমিউনিস্ট চীনেরও শঙ্কা। আমেরিকার মানুষকে এই শঙ্কামুক্ত করার অভয়বাণী শুনিয়েই মার্কিন টেলিমঞ্চের ‘শো বয়’ ট্রাম্প হোয়াইট হাউস দখল করেছেন। একবার মার্কিন বি-মুভির মাঝারি গোছের অভিনেতা রিগান সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে শয়তানের সাম্রাজ্য আখ্যা দিয়ে তাকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। রিগান ও ট্রাম্প একই রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট।

আমেরিকায় এখন ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রি নেই বললেই চলে। আমেরিকার শ্রমিকদের বেশি মজুরি দিতে হয় এবং প্রোডাকশন কস্ট অত্যন্ত বেশি পড়ে। সে জন্য যেসব দেশে সস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায়, এমন সব দেশে মার্কিন ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য তৈরি করছে। চীন এ ব্যাপারে বিরাটভাবে লাভবান হয়েছে। শিশুদের খেলনা থেকে মার্কিন সিআইএর লোগো_ সবকিছুই চীন এখন তৈরি করছে। একমাত্র যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ ছাড়া আমেরিকার আর বড় কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই। মোটরগাড়ি নির্মাণেও সে জাপানের কাছে মার খাচ্ছে।

আমেরিকায় শিল্পে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থলগ্নি হ্রাস পাওয়ায় কর্মসংস্থান কমে গেছে। হুহু করে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবন ধারণের মান ক্রমাগত নামছে। ফলে আমেরিকার মানুষ শঙ্কিত, ক্ষুব্ধ এবং ক্রুদ্ধ। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা করেছেন, সস্তা মজুরের লোভে বিদেশে মার্কিন পণ্য উৎপাদন চলবে না। দেশের পণ্য দেশে তৈরি ও উৎপাদন করা হবে। তিনি বিদেশে তৈরি জিনিসপত্রের ওপর শুল্ক বাড়াবেন (এ ব্যাপারে চীন ইতিমধ্যেই তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে)।

তিনি আরও বলেছেন, অর্থনীতির বর্তমান বিপর্যস্ত অবকাঠামো উন্নত করার জন্য সরকারের অর্থলগ্নী বাড়াবেন। বৃহৎ শিল্পপতিদের সুবিধার্থে ট্যাক্স-কাট বা কর হ্রাস করবেন। এসব প্রতিশ্রুতি আর্থিকভাবে পিষ্ট মার্কিন মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেও আশান্বিত করেছে। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরিত্র এবং তার দায়িত্বহীন কথাবার্তাকে গুরুত্ব দেননি। আগামী সুদিনের আশায় ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। ভোট দেওয়ার পর হয়তো তাদের অনেকের সম্বিত ফিরেছে_ এ কাকে ভোট দিলাম! কিন্তু ততক্ষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী পাঁচ বছরের জন্য হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হয়ে গেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা যদি তিনি সত্য সত্যই বাস্তবায়ন করেন, তাহলে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির চেহারা অদূর ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষার নামে ইউরোপসহ বিশ্বের বহু দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং বিরাট সংখ্যক আমেরিকান সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। এর খরচ বিশাল। ট্রাম্প বলেছেন, অন্যের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকা কেন এত বিশাল ব্যয়ভার অনির্দিষ্টকাল ধরে বহন করবে? এখন আমেরিকার পাহারা নির্ভর এই দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হবে।

ট্রাম্প যদি সত্যই বিদেশ থেকে মার্কিন সৈন্য ফিরিয়ে আনেন, তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি বিরাট চাপ থেকে মুক্ত হবে। এটা আমেরিকার এক বিরাট সংখ্যক মানুষকে আশান্বিত করে তুলেছে। কিন্তু এই ঘোষণায় আমেরিকার বনেদি স্বার্থ ও শাসক শ্রেণি উদ্বিগ্ন। সৈন্য প্রত্যাহার করলে আমেরিকার বিশ্বব্যাপী আধিপত্য রক্ষার কী হবে? ট্রাম্প শুধু মার্কিন সৈন্য ঘরে ফিরিয়ে আনা নয়, ন্যাটো সংস্থা সম্পর্কেও তার বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ন্যাটো দুর্বল হলে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক প্রভাবও দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে এক দল ভাবছে, বিশ্বশান্তি কিছুটা নিশ্চিত হবে। আরেক দল ভাবছে, বিশ্বের বর্তমান স্থিতাবস্থা ধ্বংস হবে।

কলামিস্ট এন্থনি হিল্টনের মতে, ট্রাম্প যদি বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি গ্রহণ করেন, তাহলে আমেরিকার অর্থনীতি হয়তো চাঙ্গা হবে; কিন্তু তার মিত্র দেশগুলোর ক্ষতি হবে। সেই ক্ষতির ধাক্কা চূড়ান্তভাবে আমেরিকার স্বার্থেও ঘা দেবে। এখন দেখার রইল, ট্রাম্পের আমেরিকা কোন পথে এগোয়? তবে যে পথেই এগোক, বিশ্ব রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন এখন আসন্ন। যাকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলছেন বিপ্লব। ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র হোয়াইট হাউসে বসেছেন। দেখা যাক তিনি আমেরিকাকে কোন পথে নিয়ে যেতে চান? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে বেশি দিন দেরি করতে হবে না। – সমকাল

লন্ডন, ২০ জানুয়ারি শুক্রবার, ২০১৭

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment