বান্দরবানে আওয়ামী লীগ কর্মী পাড়া প্রধান অপহৃত

বান্দরবান রিপোর্ট –

বান্দরবান রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্মীকে অপহরণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করে।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতিকে (পিসিজেএসএস) দায়ী করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে  পিসিজেএসএস। অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য যৌথবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেল শুক্রবার রাত নয়টার দিকে বান্দরবান রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বাঘমারা ভেতর পাড়ার মুশৈথুই মারমার (৫৮) বাড়ি ঘিরে ফেলে একদল দুর্বৃত্ত। এসময় ঘর থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করে পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। কারা কী উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো। অপহৃত ব্যক্তি নোয়াপতং ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্য।

এদিকে অপহরণের ঘটনা জানাজানি হলে শনিবার ভোর রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে এলাকার আশপাশে অভিযান চালায়। অভিযানে সন্দেহভাজন মনে করে থোয়াইচিং উ মারমা (৪২) নামের একজনকে আটক করা হয়।

আটক থোয়াইচিং উ মারমার ছেলে ক্যসিংমং জানান, তার বাবা ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনার সঙ্গে তার বাবা কোনোভাবেই জড়িত নন। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে সন্দেহে নোয়াপতং ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ক্যনুপ্রু মারমাকেও (৪৫) আটক করা হয়েছে। তার স্ত্রী মেলুংমা মারমার দাবি করেছেন তার স্বামী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

অপহৃতের স্ত্রী ক্যানুপ্রু মারমা জানান, রাতের দিকে একজন লোক তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে ঘরের বাইরে বের করে। এ সময় তিনিও বের হন। বাইরে বের হওয়ার পর আরো চারজন লোককে তিনি দেখতে পান। বাড়ি থেকে কিছু দূরে কথা বলতে বলতে নিয়ে যায়। চোখের আড়াল হওয়ার পর তার স্বামী এখনো ফিরে আসেননি।

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে এখনো কেউ জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি এই ঘটনার সঙ্গে পিসিজেএসএস জড়িত রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা জানান, জেএসএস এর আগেও ইউনিয়ন নির্বাচনের পর মংপ্রু মারমা নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে অপহরণ করেছে। ওই নেতাকে এখনো পাওয়া যায়নি। এই অপহরণ ঘটনার সঙ্গেও জেএসএস জড়িত রয়েছে।

তবে এ অপহরণের ঘটনার সঙ্গে পিসিজেএসএস জড়িত নয় বলে দাবি করে পিসিজেএসএস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ক্যবা মারমা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবী করা হয়, এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা আওয়ামী লীগ নেতারা ভালো ভাবেই জানেন। পিসিজেএসএসকে দুর্বল করতে আওয়ামী লীগ নেতাদের এটি একটি কৌশল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের এই ধরণের অপহরণ কৌশল থেকে বেরিয়ে আসা দরকার বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

রোয়াংছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: ওমর আলী জানান, অস্ত্রের মুখে দুর্বৃত্তরা পাড়া প্রধানকে অপহরণ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment