খাগড়াছড়িতে অবস্থান ধর্মঘট ও স্মারকলিপি প্রদান

১৫ মার্চ ২০১৭

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের ছাত্রী ইতি চাকমা’র খুনীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে আজ ১৫ মার্চ ২০১৭ বুধবার খাগড়াছড়িতে ডিসি অফিসের সম্মুখে অবস্থান ধর্মঘট ও ডিসি বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, নারী আত্মরক্ষা কমিটি, সাজেক নারী সমাজ ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ৫ নারী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা স্বনির্ভর, মধুপুর, মিলনপুর, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল সহকারে ডিসি অফিসের সম্মুখে মিলিত হয়ে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে। ভিক্টিম ইতি চাকমার পরিবারের লোকজনও এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন।

এদিকে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কৃষি গবেষণা, জিরো মাইল, দেওয়ান পাড়া, দীঘিনালাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে বাধা প্রদানের চেষ্টা চালায়।

অবস্থান ধর্মঘটে হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কাজলী ত্রিপুরা ও পিসিপি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা। এছাড়া ভিক্টিম ইতি চাকমার মা ভদ্রপুদি চাকমাও এতে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ইতি চাকমা হত্যাকে আমরা বিচ্ছিন্ন, আলাদা বা সর্বশেষ কোন দুঃখজনক মর্মান্তিক ঘটনা বলে মনে করি না। কারণ আমরা ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা পরিলক্ষিত করছি। আমরা তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বারে বারে এও প্রত্যক্ষ করছি যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতন-হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, কিন্তু হত্যা-নির্যাতনে জড়িতদের যথাযথ বিচার ও শাস্তি হয় না।

বক্তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, ইতি চাকমা হত্যার ঘটনা তদন্তের উছিলায় তার ঘনিষ্ঠ সহপাঠী ও বন্ধুদের আটক-জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। যা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা। একইভাবে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন হিল উইমেন্স ফেডারেশন-এর তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমাকে অপহরণের দীর্ঘ ২০ বছরেও কল্পনা চাকমা’র চিহ্নিত অপহরণকারী লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস গং’কে গ্রেফতার পূর্বক আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে নানা টালবাহানা করে তার বড় ভাই ও পরিবারের সদস্যদের এখনো হয়রানি করা হচ্ছে।

বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইতি চাকমা খুনের দুই সপ্তাহের অধিক অতিক্রান্ত হলেও ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের এখানো আটক করা হয়নি। এছাড়া ইতি চাকমার মোবাইলসহ যাকে আটক করা হয়েছে তাকেও আটক দেখানো হয়নি।

নিহত ইতি চাকমার মা ভদ্রপুদি চাকমা তাঁর মেয়ের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি করেন। তিনি ভবিষ্যতে তাঁর মেয়ের মতো কারোর মেয়ে বা ছাত্রী যাতে এ রকম নির্মম হত্যার শিকার না হয় সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

অবস্থান ধর্মঘট চলাকালীন হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর সভাপতি নিরূপা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সহ-সভাপতি জ্যোৎস্না রাণী চাকমা, নারী আত্মরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এন্টি চাকমা, সাজেক নারী সমাজ-এর সভাপতি নিরূপা চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কাজলী ত্রিপুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো: রাশেদুল ইসলাম। স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-১. ইতি চাকমার হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার, হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা, জিজ্ঞাসাবাদের নামে অহেতুক আটক ও হয়রানী বন্ধ করা; ২. সভা সমাবেশ করার সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রদান করা, গ্রেফতার ধরপাকড় তল্লাশী বন্ধ করা, ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়া এবং ৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের সার্কুলার গোপনে বা প্রকাশ্যে জনগণের সম্মতি ব্যতীত জারি বন্ধ করা।

জেলা প্রশাসক রাশেদুল ইসলাম স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়নে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে ৫ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।

অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি থেকে ইতি-তনু’র খুনী ও কল্পনা অপহরণকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে আগামী ২৯ মার্চ ২০১৭ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো ব্যাজ ধারণ ও ১ ঘন্টা ক্লাশ বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি জেলার পাঁচ শতাধিক নারী ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বার্তা প্রেরক –

নীতি শোভা চাকমা
দপ্তর সম্পাদক
হিল উইমেন্স ফেডারেশন
কেন্দ্রীয় কমিটি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment