উন্নয়নের নামে বন উজাড়

আন্তর্জাতিক বন দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক –

আন্তর্জাতিক বন দিবস আজ। বন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বন প্রকৃতির শক্তির আধার’। দিবসটি উপলক্ষে আজ সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করেছে বন বিভাগ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য সেমিনারে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবসহ অন্য অনেকে উপস্থিত থাকবেন।

বন উজাড়: উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে বন বিভাগকে। বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে বন্দোবস্ত দিতে হচ্ছে বনের জমি। নানাভাবে দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এভাবে জমি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে বনাঞ্চল। সরকারিভাবেই হস্তান্তর করা হয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার একর জমি। এর বাইরে জবরদখল হয়ে গেছে ন্যূনপক্ষে দুই লাখ  ৬৮ হাজার ২৬৫ একর বনভূমি। সব মিলিয়ে বনভূমি ধ্বংসের এই সংখ্যা বিশাল, চার লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ একর। ফলে হুমকিতে পড়ছে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আজ মঙ্গলবার একযোগে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বন দিবস।

বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এ পর্যন্ত এক লাখ ৫৮ হাজার ৩১ একর জমি হস্তান্তর করেছে বন বিভাগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে বরিশাল অঞ্চল থেকে, প্রায় ৯০ হাজার একর। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম অঞ্চল, ৩৭ হাজার একর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা অঞ্চল থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে ২৭ হাজার একর জমি। রাঙামাটি অঞ্চলে দুই হাজার ৭০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে।

জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে আইন অনুসরণ করেই জমি দেওয়া হয়। আর যেসব জমি এরই মধ্যে বেহাত হয়ে গেছে, সেগুলো উদ্ধারে বন বিভাগ কাজ করছে। গত শনিবার রাতে ভাওয়ালে বনের জমিতে গড়ে ওঠা ২৬টি বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। অনেক স্থানে জমি ফেরত পাওয়া নিয়ে মামলা চলছে।

এ তো গেল সরকারি সংস্থাগুলোকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার হিসাব। এর বাইরে আছে বনের জমি জবরদখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার। বনের জমিতে বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ঘটনা ঘটছে অহরহ। বন বিভাগের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত বন দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। বনের জমি দখল করে কেউ শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছে, কেউ আবার তৈরি করেছে সীমানাদেয়াল। বড় বড় শিল্পপতি শুধু নয়, বন দখলদারের তালিকায় আছে এলাকাবাসী এবং খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তারাও। তারা বনের জমি দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট তৈরি করেছে। কেউ কেউ আবার বিলাসবহুল বাংলো তুলেছে বনের জমিতে।

বন বিভাগের সর্বশেষ তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর জমি জবরদখল হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি দখল হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে, এক লাখ ৬৩ হাজার একর। এর পরেই আছে চট্টগ্রাম অঞ্চল, ৬৩ হাজার একর। তৃতীয় অবস্থানে আছে রাঙামাটি, ১৪ হাজার ৭৩৬ একর এবং চতুর্থ অবস্থানে বরিশাল, ১৪ হাজার ৭২৮ একর।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment