মানুষ ও পাখির মধ্যে ভালবাসার বিরল দৃষ্টান্ত

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

মানুষ ও পাখির ভালবাসার বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন রাঙ্গামাটির মাঝেরবস্তী এলাকার শোভা ত্রিপুরা। এ যেন মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে এক আত্মীয়তার বন্ধন।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে শোভা ত্রিপুরার সাথে কথা বলে জানা যায়, যেখানেই মানুষের সবচেয়ে বেশী আনাগোনা ঠিক বাড়ীর প্রধান দরজার পাশে লাগানো ছোট্ট পাতা বাহার গাছের ডালেই গত ৩ সপ্তাহ আগে বাসা বেঁধেছিল দেশীয় পাখি বুলবুলি। যে পাখি কখনো পোষ মানে না এবং মানুষের সংস্পর্শেও আসে না। সেই থেকে ডিমে তা দিয়ে ৩টি বাচ্চা নিয়ে মা-বাবা পাখি তার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

প্রথম দিকে মানুষের আনাগোনায় পাখিরা ভয় পেলেও এখন আর তেমন ভয় পায় না। পাখিদের নিজের সংগ্রহ করা খাবারের পাশাপাশি শোভা ত্রিপুরা ও তার ৩ কন্যা সন্তান শান্তা, পুষ্প ও ফাল্গুনীর হাতে দেওয়া খাবার ও পানি নির্ভয়ে খেয়েই বড় করছেন মা-বাবা পাখিগুলো তাদের বাচ্চাদের। পাখিগুলো মানব শিশুর মত ভালবাসা, শাসন, আদর, সবই যেন বোঝে। সচরাচর খুব কমই দেখা যায় এ ধরনের দৃশ্য। এ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই প্রতিবেশীরা প্রায় সময় ভিড় জমায় শোভা ত্রিপুরার বাসায়। শোভা ত্রিপুরা বলেন, আমার তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তেমনি এই পাখিগুলোরও রয়েছে তিনটি বাচ্চা, তাই আমি আমার সন্তানের মতো করেই তাদের দেখি। কেউ যেন তাদের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সবসময় লক্ষ্য রাখি।

তিনি বলেন, ভালোবাস-মায়া মমতা পেলে পাখি কেন হিংস্র বাঘকেও পোষ মানানো সম্ভব। কেউ যেন পাখি শিকার এবং প্রাণীকুল ও প্রকৃতিকে ধ্বংস না করে তাদের সংরক্ষণ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment