রামগড়ে হামলা, ভাঙচুরের প্রতিবাদে খাগড়ছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ

১ জুলাই ২০১৭

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

খাগড়াছড়ি জেলাধীন রামগড় উপজেলা সদর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ডে সোনাইআগা, তালতলি পাড়া ও ব্রত চন্দ্র কার্বারী পাড়ায় সেটলার কর্তৃক তিন পাহাড়ি গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরে প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চ্ট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। আজ শনিবার (১ জুলাই ২০১৭) দুপুর ১টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদর নারাঙহিয়া রেড স্কোয়ার থেকে শুরু করে স্বনির্ভর বাজার বটগাছের তলায় এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা, এইচডব্লিউএফ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রেশমি মারমা ও ডিওয়াইএফ জেলা শাখার সদস্য অতুল বিকাশ চাকমা।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় কালাডেবার উগ্রসাম্প্রদায়িক সেটলাররা বিনা উস্কানিতে সোনাইআগা, তালতলি ও ব্রত চন্দ্র কার্বারী পাড়ায় নিরীহ পাহাড়িদের তিনটি গ্রামে দুইটি দোকানসহ ১১টির অধিক বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুর ঘটনা ঘটায়। সেটলাররা আজ সকাল ১০.৩০টার দিকে নবম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ইতিহাসে অতীতে সেটলার, সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনী কর্তৃক পাহাড়িদের উপর গণহত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভূমি বেদখল ও নারী নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটিয়েছিল। অতীতে সকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও এই রাষ্ট্রের প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান না করায় অপরাধীরা এই রকম ঘটনা বার বার ঘটাচ্ছে।

তারা আরো বলেন, কয়েক মাস আগে দুষ্কৃতিকারী সেনা কর্মকর্তারা পিসিপি’র নেতা রমেল চাকমাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে, সেনা-পুলিশের সহায়তায় সেটলাররা লংগুদুতে পাহাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ করেছিল তার বিচার করেনি এদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসন। সরকার সেনা-প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রদায়িক নীতির ও পাহাড়ি জাতিসত্তাসমূহকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অব্যাহত রাখার কারণে গতকাল রামগড়ে সেটলারা বাঙালিরা পাহড়িদের গ্রামে হামলা চালানোর সুযোগ পেয়েছে।

বক্তারা, বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রামগড়ে সেটলার কর্তৃক তিন পাহাড়ি গ্রামে হামলার মূল হোতা বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি মো: হোসাইন, নূরনবী, জসীম ও মিন্টু কোম্পানিসহ ঘটনার সাথে জড়িত সেটলার বাঙালিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সেটলার কর্তৃক ভবিষ্যতে ঐ এলাকা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক –
সমর চাকমা
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
খাগড়াছড়ি জেলা শাখা
মোবাইল নং- ০১৫৩৬০৬৯৩২৫।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment