রাঙ্গামাটিতে আদিবাসী দিবস পালিত

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

বাংলাদেশের আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিতে সরকারের এতো কৃপণতা কেন প্রশ্ন তুলেছেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ২০০৯ সালের আদিবাসী দিবসের সকল অনুষ্ঠানে থেকে আদিবাসীদের নিয়ে কথা বলেছে ২০১০ সালে এসে আবার সুর পাল্টিয়ে উল্টো পথে হাটছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘ যেখানে আদিবাসীদের উন্নয়নে কথা বলছে সেখানে বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আদিবাসীদের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতরে পরিণত করে তাদের অস্তিত্বকে বিলীন করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তিনি সরকারকে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার আহবান জানান।

বুধবার (৯ আগষ্ট) সকালে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার বাস্তবায়ন চাই – এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণার একদশক পূর্তি উপলক্ষে বেলুন উড়িয়ে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্চিতা চাকমা।

আলোচনা সভায় বিজয় কেতন চাকমার বক্তব্যে ঊষাতন তালুকদার বলেন, এটি কোন নির্বাচনী সভা নয়। এটি আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের সমাবেশ। এ সমাবেশে এসে নির্বাচনী বক্তব্য দিয়ে কাউকে হেয় করার কোন যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি কাকে মনোনয়ন দেবে তা পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতিই ঠিক করবে। তিনি বলেন, আমার মোবাইল বন্ধ ছিলো শুধু আমি বিদেশে থাকা অবস্থায়, তা না হলে কখনোই আমার মোবাইল বন্ধ ছিলো না। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য জাতীয় সংসদে বেশ কয়েকবার আমি কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও জুম্ম জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি। কেউ যদি আমাকে ভুল বুঝে তাহলে আমার করার কিছুই থাকে না।

সংগঠনের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক বিজয় কেতন চাকমা, আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমণি তালুকদার।

সভায় আদিবাসী নেতারা বলেন, সংবিধানে সরকারের চাপিয়ে দেয়া জাতিগত পরিচিতি আদিবাসীরা কখনো মেনে নেয়নি। আমরা ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়’ এসব চাইনি। চাই আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি। আদিবাসী জনগণের আত্ম-পরিচয় দেয়ার অধিকার রয়েছে। জোর করে কেউ তাদের জাতিগত পরিচিতি বদলে দিতে পারে না।

সরকারের পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সদিচ্ছা নেই। এখন চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার। পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে পাহাড়ে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করায় পাহাড়ে আবার নতুন করে ক্ষোভ ও অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই অবিলম্বে আদিবাসী সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ আদিবাসীদের মৌলিক অধিকারগুলো মেনে নিতে সরকারে প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়। এতে আদিবাসী নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে র‍্যালি ও স্লোগানে অংশ নেন।

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment