রাঙ্গামাটিতে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৭৮তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

 

পার্বত্য চট্টগ্রামকে সরকার বিশ্বের সেরা কারাগারে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জন সংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের চেয়ে এতবড় কারাগার বিশ্বের আর কোথাও নেই।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটিতে জন সংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৭৮তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাঙ্গামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে সুবর্ণ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কল্পনা চাকমা, শিক্ষক শিশির চাকমা, যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুন ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ  সম্পাদক সুমন মারমা বক্তব্য রাখেন।

সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চুক্তিকে প্রতিনিয়ত লংঘন করে সরকার ঔপনেবেশিক কায়দায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন করছে। এতে করে অধিকার বঞ্চিত হয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। আজকে শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীকে পদদলিত করে তথা পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত যে অধিকার সেই অধিকার খর্ব করে চলেছে। যে কারণে আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতায় আমরা সুষ্ঠুভাবে জীবন ধারণ করতে পারছি না। আজকে জুম্ম জনগণের পায়ের নীচে মাটি নেই। তাদের জীবন আজকে জাতিগত সম্প্রদায়গত অর্থনৈতিকগত তথা সকল প্রকার শোষণ-নিপীড়ন নির্যাতনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২০ বছর অতিবাহিত হওয়ার সময়েও আমাদের বলতে হচ্ছে যে আমরা এখনো পর্যন্ত আমাদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার অর্জন করতে পারেনি।

সন্তু লারমা আরো বলেন, আজকে এখানে ভূমি অধিকার নেই। চুক্তি অনুযায়ী ভূমি অধিকার এখানে দেয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সেই ভূমি অধিকার এখনো জেলা পরিষদের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের কাছে দেয়নি। যে কারণে আজকে জুম্ম জনগণের পায়ে নিচে মাটি নেই, তার বসত-বাড়ি নেই, তাদের বসতভিটা নেই। তাদের বেঁচে থাকার জন্য এই পার্বত্য অঞ্চলে যে সহায় সম্পদ সেটা এখন অনেক দূরে। এ কারণে ভূমি নিয়ে অহরহ নানা ধরনের জুম্মস্বার্থ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বিরাজমান। আজকে এখানে জুম্ম জনগণের অস্তিত্বকে বিলুপ্তি করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এই ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন সংগ্রামে পাহাড়ি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি।

 

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment