রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় -এর সংবাদ সম্মেলন

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

মায়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিষ্ট্রার দেবাশীষ রায়।

আজ রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি চাকমা রাজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান রাজা দেবাশীষ রায়। তিনি দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী ব্যক্তিদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবী পেশ করেন।

৭ দফা দাবীতে রয়েছে ১. বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যথাযথ পরিবেশ আনয়ন সাপেক্ষে বর্মী শরণার্থীদের তাঁদের স্বস্ব এলাকায় সন্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা, ২. স্বদেশে প্রত্যাবতন না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পর্যাপ্ত শিবির প্রতিষ্ঠা, এবং শিবির-বাসীর জন্য খাদ্য ও পুষ্টি-নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ প্রদান করা। এতে আন্তর্জাতিক দাতা-সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিও-দের আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা ও ভূমিকা থাকা। তবে শিবিরের স্থান বাছায়ে যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষতি সাধিত না হয় তাও নিশ্চিত করা, ৩. বাংলাদেশে বসবাসরত ‘রোহিঙ্গা’ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত সংগঠন বা ব্যক্তিদের সশস্ত্র সংঘাত সম্পর্কিত কার্যকলাপ যাতে বাংলাদেশে বা বার্মায়, হতে না পারে, সরকার কর্তৃক তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ৪. সরকার, পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দেশের বিভিন্ন এলাকাতে বসবাসকারী বা সফররত পাহাড়ি বা আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী ব্যক্তিদের (বিশেষ করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার রপ্তানি কারখানায় কর্মরত পাহাড়ি ব্যক্তিদের) জীবন, দেহ ও সম্পত্তির নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ৫. প্রচার মাধ্যম, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজ কর্তৃক বার্মার রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতকে বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ মর্মে অপব্যাখ্যাকে প্রতিহত করা, ৬. ফেসবুকেসহ ইন্টারনেট, পত্র পত্রিকা, সভা, সম্মেলন, সমাবেশ ও অন্যান্য মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের বিরুদ্ধে সরকার কর্তৃক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এবং ৭. সীমান্ত এলাকায় শরণার্থী শিবিরে যথাযথ সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শরণার্থীদের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যত্র অঞ্চলে অভিবাসন না হওয়ার ব্যাপারে সরকার কর্তৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা।

চাকমা রাজা বলেন, রাখাইন রাজ্যের শরণার্থীদের প্রতি তাঁদের স্বদেশে অত্যাচার ও বাংলাদেশে তাঁদের আগমনকে ঘিরে নানা প্রচার, অপ-প্রচার, গুজব এবং সীমিত পর্যায়ের হিংসাত্মক ঘটনার কথা আমরা জানতে পেরেছি। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে কর্মরত বা বসবাসরত পার্বত্য চট্টগ্রামের একাধিক পাহাড়ি ব্যক্তি তাঁদের জাতিগত বা ধর্মগত পরিচয়ের কারণে কটাক্ষ উক্তি, হুমকি, হিংসাত্মক ও অন্যান্যভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়েছেন মর্মে আমরা জেনেছি, এটা সংশয়ের বিষয় এবং আমি এ ব্যাপারে তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরো বলেন, মানবাধিকারের দৃষ্টিতে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং বাণিজ্যের কারণে সীমান্তের উভয় দিকে বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী সমূহের সদ্ভাব বজায় রাখা অপরিহার্য। একই কারণে বাংলাদেশে বসবাসরত নাগরিকদের, বাঙালি, পাহাড়ি ও অন্যান্য আদিবাসী, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্ম বা আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যেও সদ্ভাব বজায় রাখতে হবে।

মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে দেশে আশ্রয় দিয়ে তাদেরকে মর্যাদা সহকারে যা কিছু করার সরকারকে তা করতে হবে। কেউ যাতে এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সকলকে সজাগ থাকারও আহবান জানান রাজা দেবাশীষ রায়।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment