পিসিপি’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুমন্ত চাকমা জামিনে মুক্ত

১১ অক্টোবর ২০১৭
প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর খাগড়াছড়ি জেলা শাখার শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুমন্ত চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর ২০১৭) খাগড়াছড়ি জেলা আদালতে জামিন মঞ্জুর হলে বিকাল সাড়ে ৫টায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তাকে গত ২০ মে মহালছড়ি থেকে সাজানো ও মিথ্যা অস্ত্র মামলা দিয়ে আটক করা হয়। মহালছড়ি জোন সেনাবাহিনী তাকে আটক করে।

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সুমন্ত চাকমা নেতা-কর্মীদের সাথে সাক্ষাত করার সময় বলেন, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সক্রিয় থাকায় সেনাবাহিনী ষড়যন্ত্র করে রাতের আধারে বাড়ি ঘর ঘেরাও করে আটক করার পর সাজানো ও মিথ্যা অস্ত্র মামলা দায়ের করেছে।

আটক করার পরে সেনাবাহিনী জোন দপ্তরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। সে জন্য আমি ভীত নই। দেশ, জাতি, সমাজ কল্যাণের জন্য আমি প্রয়োজনে সকল ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত আছি।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়িদের একটি অংশ আন্দোলনের নামে সরকার শাসক গোষ্ঠীর সাথে লেজুরবৃত্তি করে জাতিকে বিপথে পরিচালনা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সুতরাং সে বিষয়ে সকল নেতা-কর্মী ও জন সাধারণকে সজাগ থাকতে হবে এবং তাদেরকে চিহ্নিত করে জনগণের কাঠগড়ায় নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি, শাসক গোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নিজেদেরকে সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে সামিল হতে ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে ২০১৭ মহালছড়ি জোনের সেনাবাহিনী রাতের আধারে সুমন্ত চাকমার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটক করে সাজানো অস্ত্র মামলায় জড়ানো হয়।

দীর্ঘ ৫ মাস কারা ভোগের পর পিসিপি’র এই নেতা জামিনে মুক্তি লাভ করলেন।

পাহাড়ি জনগণের আন্দোলনকামী ছাত্র, যুবক ও পার্টি সদস্যদের সেনাবাহিনী আটক করলেই তাদের হাতে অস্ত্র গুজিয়ে দিয়ে ছবি তোলা স্বাভাবিক এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রমোশন পাওয়ার জন্য অথবা সেনা দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের চাহিদা মাফিক সেনাবাহিনী এই কাজ করে থাকে বলে প্রতীয়মান হয়।

বার্তা প্রেরক,

(সমর চাকমা)
দপ্তর সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ
খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment