ছাত্র সংগঠনসমূহের যৌথ বিবৃতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অগণতান্ত্রিক সার্কুলার প্রত্যাহার করতে হবে

৫ ডিসেম্বর ২০১৭

নান্যাচর কলেজে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) -এর নবীন বরণ ও কলেজ শাখা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গত ১৯ নভেম্বর/১৭ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত” সার্কুলার জারি করা হয়। এই সার্কুলার পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান দমন পীড়নের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে বলে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ মনে করি। আমরা জানি, সেনাশাসনের দমন পীড়নে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ পিষ্ট, তার ওপর মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১১ নির্দেশনা জারির মাধ্যমে দমন পীড়ন আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, দমন পীড়নের ধারাবাহিকতায় নান্যাচর জোনের সেনাদের হাতে নিষ্ঠুর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমা এ বছর ১৯ এপ্রিল মারা যান। এ থেকে অনুমেয় পার্বত্য চট্টগ্রামে কী ধরনের বর্বর শাসন ব্যবস্থা জারি রয়েছে। এই দমন পীড়নের পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই ভীতিকর পরিবেশে পড়াশুনা করে থাকে, তার ওপর এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সার্কুলার জারি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘কঠোরনজরদারি’র নির্দেশনা দিয়ে কার্যতঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই ভীতিকর পরিস্থিতিকে আরো জোরালো করা হলো। এটা বুঝতে বাকী থাকে না, শিক্ষার্থীদের ওপর সেনা-প্রশাসনের দমন পীড়ন বাড়ানোর লক্ষ্যেই একশ্রেণীর আজ্ঞাবাহী আমলা কর্তৃক মদদ দেয়া হয়েছে এই সার্কুলারের মাধ্যমে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সার্কুলার সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। সার্কুলারে পিসিপি’র নবীন বরণ ও কলেজ কাউন্সিলের মত নিরীহ অনুষ্ঠানকেও রাষ্ট্র বিরোধী গণ্য করার ঘটনা বাস্তবিকই আমাদের হতবাক করেছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার সূতিকাগার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু এই সার্কুলারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার, মত প্রকাশের অধিকারও মুক্ত বুদ্ধিচর্চার ওপর আঘাত করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এটি কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে নয়, বরং পুরো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র, মুক্তবুদ্ধি চর্চার ওপরও অশনি সংকেত হিসেবে আমরা মনে করি। তাই আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত অগণতান্ত্রিক নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।

বার্তা প্রেরক
ফয়সালমাহমুদ
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।
স্বাক্ষরকারী –
১.বিপ্লবভট্টাচার্য, আহ্বায়ক, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন।
২.সাঈদ বিলাস, সভাপতি, ছাত্র গণমঞ্চ।
৩.পারভেজ লেলিন, সভাপতি,বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment