রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক

 

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

দীর্ঘদিন পর রাঙ্গামাটিতে ভূমি কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে সার্কিট হাউজে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে কমিশনের সকল সদস্যকেই উৎফুল্ল দেখা গেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক এর প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ শেষে পুনর্নিয়োগ পাওয়ার পর এটাই ভূমি কমিশনের প্রথম সভা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আনোয়ার উল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়, বান্দরবান বোমাং সার্কেল চীফ উ চ প্রু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো: আনোয়ার উল হক বলেছেন, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের ভূমি ফেরত প্রদানের মাধ্যমে ভূমি কমিশনের কাজ শুরু করতে চাই। তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে দ্রুতই ভূমি কমিশনের দু,টি শাখা অফিস খোলা হবে। কমিশন এখন কাজ শুরু করবে, শাখা অফিস অনুমোদিত হয়েছে, অফিসও ভাড়া নেয়া হবে। কমিশনে প্রায় বাইশ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অবৈধ বা আইন লঙ্ঘন করে দেয়া ভূমি বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ভূমি কমিশনের একটি খসড়া বিধিমালা সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বিধিমালা প্রণয়নের জন্য আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। শুধু বিধিমালার জন্য অপেক্ষা নয়, কাজও চলবে, বিধিমালার জন্যও অপেক্ষা করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ভূমি কমিশনের প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, কমিশনের কাজ আরো তরান্বিত করা দরকার। প্রবিধান প্রণয়ন না হলে কাজ দ্রুত এগোতে পারবে না। এছাড়া ভূমি কমিশনকে দ্রুত কার্যকর করতে লোকবলও নিয়োগ দিতে হবে। এটার দায়িত্ব সরকারের। এটা প্রণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ এগিয়ে নিতে পারব না।

চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেছেন, জেলা ও স্ব-স্ব সার্কেল অনুসারে সবকিছু ভাগ করে দেয়া হবে, তখন কাজ ছোট হয়ে আসবে এবং কাজও বেগবান হবে। একই সাথে বিধিমালা প্রণয়ণের কাজটিও দ্রুততর করতে হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment