রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

ছাত্রলীগের ডাকে রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। দলীয় নেতার উপর সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তী বিক্ষোভে পুলিশী হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল-সন্ধ্যা জেলা ছাত্রলীগ এ হরতালের ডাক দেয়।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হরতাল চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ কালে পূর্বদেশের প্রতিনিধি মো: কামাল উদ্দিন ও চ্যানেল ৯ এর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম হামলার শিকার হন। তারা আহত অবস্থায় রাঙ্গামাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই নিয়ে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে তিন সাংবাদিক হামলার শিকার হন।

হরতাল চলাকালে রাঙ্গামাটি শহরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার, অভ্যন্তরীণ রুট এবং নৌ পথে কোন যানবাহন ও লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। শহরের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। অফিস আদালত খোলা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। তবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরিবহনের গাড়ী হরতালের আওতা মুক্ত রাখা হয়।

এদিকে হরতালের সমর্থনে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার, পুরাতন বাস ষ্টেশন, বনরূপা, কোর্ট বিল্ডিং, ষ্টেডিয়াম, কলেজ গেইট ও ভেদভেদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিকেটিং করে। সাধারণ যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়ে পিকেটাররা কড়া অবস্থান নেয়। এছাড়া রাঙ্গামাটি বাইরে থেকে চট্টগ্রাম সরকারী মহিলা কলেজের তিনটি বাস বসন্ত উৎসবে রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে এসে হরতালকারীদের কবলে পড়ে। অবশ্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা থাকার পর হরতালকারীরা তাদের রাঙ্গামাটি শহরে ঢুকতে দেয়া হয়। ফলে হরতাল চলাকালেও বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে যেতে সক্ষম হয়। তবে হরতাল চলাকালে শহরে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

অন্যদিকে বিকেলে হরতাল শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে জেলা শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বনরূপা বিএম শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক লীগের সম্পাদক শামসুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: শাওয়াল উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কান্তি চাকমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম জাহাঙ্গীর আলম, কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়ার প্রত্যাহার দাবী করেন। তাদের দাবী মেনে নেয়া না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটিতে সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সুপায়ন চাকমা সন্ত্রাসী হামলায় আহত হলে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে দায়ী করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ রাঙ্গামাটি শহরের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপের ঘটনার ১৫ জন আহত হয়, এর প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকে ছাত্রলীগ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment