খাগড়াছড়িতে পিসিপি’র ছাত্র সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

‘শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই আহ্বানে সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুসহ পিসিপি’র ৫ দফা পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে খাগড়াছড়িতে ছাত্র সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার সকাল ১০.৩০টায় খাগড়াছড়ি সদরস্থ স্বনির্ভর বাজারের শহীদ অমর বিকাশ সড়কে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি তপন চাকমার সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায়, সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বর্তমান ইউপিডিএফ -এর সংগঠক মিল্টন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা, পিসিপি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জেসিম চাকমা। মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক অতুল চাকমা।

দ্বিতীয়া চাকমা বলেন, একটি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ষড়যন্ত্রকারী চক্রটি পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন ইস্যু সৃষ্টি করছে। রাণী ইয়েন ইয়েন উপর হামলা করে, রাষ্ট্র তার আসল চেহারা উন্মোচন করেছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সম্মানের কোনো দাম নেই। ২২ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি বিলাইছড়িতে সেনাকর্তৃক ধর্ষণের শিকার মারমা নারীদের হাসপাতাল থেকে অপহরণকারী ও রাণী ইয়েন ইয়েন এর উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মিল্টন চাকমা বলেন, ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরিক্ষার সব প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সরকার জাতির নেতৃত্বকে দূর্বল ও ধ্বংস করার জন্য প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ইউপিডিএফকে অঙ্গুরে বিনষ্ট করার জন্য ১৯৯৮ সাল থেকে ইউপিডিএফ সদস্যদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন, খুন-গুম চালিয়ে যাচ্ছে শাসকশ্রেণী। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- নির্যাতন-নিপীড়ন, খুন-ঘুম করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিকে দমন করা যাবে না। গ্রেপ্তার করে, নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে, খুন করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। পিসিপি’র আন্দোলনের বীজ থেকে জন্ম নেওয়া ইউপিডিএফ’কেও দমন করা যাবে না। আজ সকাল ৮.৩০ টায় খাগড়াছড়ি হরিনাথ পাড়ায় সেনাসৃষ্ট নব্য মুখোশ বাহিনী কর্তৃক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাণী ইয়েন ইয়েনের এর উপর হামলার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আজ ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি চাকমা রাণী ইয়েন ইয়েন এর উপর হামলাকারী সেনা-পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার ঔপনিবেশিক শাসন জারি রেখেছে। চুক্তির মধ্যে দিয়ে জুম্ম জনগণের অধিকার অর্জিত হয়নি। এই কথা আমরা ১৯ বছর আগেও বলেছিলাম এখনো বলছি। তাই, আপনাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন-মুক্তির দাবির স্বপক্ষে সমর্থন ও অধিকার আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আদায়ের আন্দোলনের জন্য আপনাদেরকে যোগ্য হয়ে উঠার আহ্বান জানাচ্ছি।

তপন চাকমা বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস, ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষার চেতনাকে জাগ্রত করে। পিসিপি’র দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার ৬টি জাতিসত্তার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। ৬টি মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাকি জাতিসত্তাগুলোর মাতৃভাষার শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। যা চালু হয়েছে তাও সরকারের তদারকি ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ না দেওয়ার কারণে অচল অবস্থায় রয়েছে। মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের জন্য পিসিপি’র আন্দোলনকে তৎকালীন পিসিপি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ মিঠুন চাকমা দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বাহিনী এখনো পর্যন্ত মিঠুন চাকমা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মিঠুন চাকমার হত্যাকারীরা আজ আবার হরিনাথ পাড়ায় ইউপিডিএফ সদস্য বিনয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই সরকার, এই রাষ্ট্র জুম্ম জনগণের পক্ষে নয়, তাই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়ন-নির্যাতনের অবসান ঘটাতে হবে।

রাঙ্গামাটি বিলাইছড়িতে সেনাকর্তৃক ধর্ষণের শিকার দুই মারমা কিশোরীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করায় তীব্র সমালোচনা করেন পিসিপি’র এই নেতা। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির এসপি কাণ্ডজ্ঞানহীন ও আইনপরিপন্থী কাজ করেছেন । তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। সাজেক, বাঘাইছড়ি, দীঘিনালা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা ছাত্র-ছাত্রী ও পিসিপি নেতাকর্মীদের দীঘিনালা জামতলীতে সেনা সদস্যরা বাধা ও ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানান তিনি।

সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা চালু, শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পিসিপি’র ৫দফা পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশ শেষে দূপুর ১২.৩০ টায় সমাবেশ স্থল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে রেড স্কোয়ার-উপজেলা-খাগড়াছড়ি কলেজ গেইট-চেঙ্গি স্কোয়ার ঘুরে পুনরায় সমাবেশ স্থলে এসে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।

পিসিপি’র শিক্ষা সংক্রান্ত পাঁচ দফা দাবি নামা :

১. পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. জাতিসত্তার প্রতি অবমাননাকর যে কোন বক্তব্য পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দিতে হবে ।
৩. পাহাড়ি জাতিসত্তার সঠিক ও সংগ্রামী রাজনৈতিক ইতিহাস সম্বলিত পুস্তক পার্বত্য চট্টগ্রামের স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে ।
৪. বাংলাদেশের সকল জাতিসত্তার সংক্ষিপ্ত সঠিক তথ্য সম্বলিত পরিচিতিমূলক পুস্তক বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
৫. পার্বত্য কোটা বাতিল করে পাহাড়ি কোটা চালু করতে হবে ।

বার্তা প্রেরক

(সমর চাকমা)
দপ্তর সম্পাদক,পিসিপি
খাগড়াছড়ি জেলা শাখ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment