খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বিক্ষোভ

৯ মার্চ ২০১৮

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নে ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণ ও গুইমারা উপজেলায় নারী সমাবেশে সেনাবাহিনীর হামলার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে আজ বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা কমিটি। আজ ৯ মার্চ ২০১৮ বেলা ২.৩০টার দিকে স্বনির্ভর ইউপিডিএফ এর কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, কলেজগেটের তালুকদার পাড়া হয়ে ঘুরে এসে স্বনির্ভর বাজার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। রেশমী মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক জেসিম চাকমা, জেলার সাধারণ সম্পাদক অমল বিকাশ ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সদর থানার সাধারণ সম্পাদক অতুল চাকমা। এতে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা।

অমল ত্রিপুরা তার বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রকৃত অপরাধীদের ব্যবস্থা না নিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা করে যাচ্ছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দমন করার জন্য নানানভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই বিচারহীন সংস্কৃতির কারণের অপরাধীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ মার্চ স্বনির্ভর বাজারে মুখোশ বাহিনী প্রতিরোধ দিবসে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার জন্য ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা অবস্থান করলে সেনাবাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। সেই ঘটনায় উল্টো মিথ্যা অভিযোগ এনে গতকাল খাগড়াছড়ি সদর থানায় তিন সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ি কলেজের ছাত্রী ইতি হত্যার সাথে জড়িতদের সরকার ও প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা না নিয়ে বরঞ্চ যার হাতে ইতির মোবাইল পাওয়া গিয়েছিলো রুবেল তাকে ছেড়ে দিয়ে ইতির ক্লাশমেটদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এখনো তারা অন্তরীণ রয়েছে।

তিনি, শাসক গোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান এবং নেতা-কর্মীদের উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

দ্বিতীয়া চাকমা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গুইমারা উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নারী সমাবেশে স্বৈরাচারী কায়দায় সেনাবাহিনী সদস্যরা হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশে যখন নারী অধিকার নিয়ে বিভিন্ন জয়াগায় নারী সমাবেশ করছে তখন গুইমারায় নারী সমাবেশে হামলার মাধ্যমে সেনাবাহিনী আবারো প্রমাণ করলো পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতনে সোনবাহিনীরা পাক হানাদানর বাহিনীর ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নে ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটায় প্রমাণ করলো পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীরা সেনা-প্রশাসন-সেটলার বাঙালিদের কাছ থেকে কোন জায়গায় নিরাপদ নয়।

অতুল চাকমা বলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ধরপাকড়, নির্যাতন-ধর্ষণ-খুন-গুম-হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পাহাড় ও সমতলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি শাসক গোষ্ঠীর সকল ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ছাত্র-যুব-নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা গোমতি ইউনিয়নের ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণকারী মোহাম্মদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ গুইমারা উপজেলায় শান্তিপূর্ণ নারী সমাবেশে সেনা-পুলিশের বর্বর হামলার সাথে জড়িত সেনা-পুলিশের সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রদানের আহ্বান জানান এবং সেনা-সেটলারদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক
রেশমী মারমা
সাংগঠনিক সম্পাদক
হিল উইমেন্স ফেডারেশন
খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment