নান্যাচরের গণসমাবেশে নগ্ন হামলা ও আটকের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ

২৫ মার্চ ২০১৮
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি –

দুই নেত্রীর উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত নান্যাচরের গণসমাবেশে সেনাবাহিনীর নগ্ন হামলা ও আটকের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ) খাগড়াছড়ি জেলা শাখা। আজ শুক্রবার (৩০ মার্চ ২০১৮) বিকাল ৪টায় মিছিলটি খাগড়াছড়ি জেলা সদর স্বনির্ভর বাজার ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কার্যালয়ের সামনে থেকে বের করে নারাঙহিয়া রেড স্কোয়ার ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউট সামনে প্রদক্ষিণ করে আবার স্বনির্ভর বাজার শহীদ অমর বিকাশ চাকমা সড়কে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য রতন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি তপন চাকমা।

কেন্দ্রীয় সদস্য রতন চাকমা বলেন, যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তারা পাকহানাদার বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিলাইছড়িতে দুই মারমা তরুণীর ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির –ঘটানাকে দামাচাপা দিতে রাণী ইয়েন ইয়েনের উপর হামলা ও সেনাবাহিনীর লেলিয়ে দেওয়া পোষ্য নব্য মুখোশ বাহিনী বর্মা, জোলেয়্যাদের দিয়ে দুই নেত্রীকে আপহরণ করেছে। নান্যাচরে গণসমাবেশে হামলা করে আবারো প্রমাণ করলো সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে।

দ্বিতীয়া চাকমা বলেন, নান্যাচরে দুই নেত্রীর উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে সেনাবাহিনীর হামলা ও প্রগতিশীল নারী ও ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ১২ দিন গত হওয়ার পরও দুই নেত্রীর উদ্ধারের কোন তৎপরতা না দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তপন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, গত ১৮ মার্চ সেনাবাহিনী লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহৃত দুই নেত্রীকে উদ্ধারের দাবিতে আজকে নান্যাচরে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ শুরু হওয়ার আগে সেখানকার সেনাবাহিনী অংশ গ্রহণকারীদের ওপর নগ্ন হামলা করে ৮ জনকে আটক করেছে। অপহরণের ঘটনার আজকে ১২ দিন হলেও উদ্ধারের তৎতপরতা না চালিয়ে উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত আজকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা হামলা ও প্রগতিশীল নারী ও ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের যারা আটক করেছিল সে সেনাবাহিনী সদস্যরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত। তিনি অবিলম্বে হামলাকারী সেনা সদস্যদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও গণতান্ত্রিক মিছিল মিটিংয়ের উপর সেনা-প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে কার্যত কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই। যে সকল ঘটনায় সেনা-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়িত সেই সকল ঘটনায় কোন ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি-সমাধানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের অধিকার, ভূমি আধিকার, সেনা-সেটলার প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

বার্তা প্রেরক,

রেশমি মারমা
সাংগঠনিক সম্পাদক
হিল উইমেন্স ফেডারেশন
খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment