অপহৃত তিন ব্যক্তিকে মুক্তি

জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাওয়া মন্টি চাকমার পরিবারকে উচ্ছেদের নিন্দা

২৮ এপ্রিল ২০১৮

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙ্গামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা আজ ২৮ এপ্রিল শনিবার এক বিবৃতিতে সম্প্রতি নব্য মুখোশ বাহিনী – জেএসএস সংস্কারবাদীদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পাওয়া হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী মন্টি চাকমার পরিবারের সদস্যদেরকে নানিয়াচরের নিজ গ্রাম মরা চেঙেদোর থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নব্য মুখোশ বাহিনীর সর্দার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা মোবাইল ফোনে আজ ১২টার মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। চলে না গেলে তাদেরকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে সে হুমকি দেয়।’

গতকাল শুক্রবার জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা ঢাকায় ১৯টি প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করে তাদের জিম্মি দশার চিত্র তুলে ধরার পর ক্ষুদ্ধ হয়ে বর্মা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ইউপিডিএফ নেতা মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ ২০১৮ বর্মা ও তার সহযোগী দুর্বৃত্তরা রাঙ্গামাটির কুদুকছড়ির আবাসিক নামক গ্রামে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নাইজেরিয়ার বোকো হারাম জঙ্গীদের স্টাইলে এইচডব্লিউএফ-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও সংগঠনটির রাঙ্গামাটি শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং অবশেষে ব্যাপক চাপের মুখে গত ১৯ এপ্রিল অপহরণকারীরা তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উক্ত অপহরণ ঘটনার প্রতিবাদে মন্টি ও দয়াসোনা চাকমার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় উক্ত ১৯টি সংগঠনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের এই ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে দুই নেত্রী গতকাল ঢাকায় তাদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন।

বাঘাইছড়িতে তিন ব্যক্তিকে অপহরণের পর মুক্তি –
অপর এক ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি পৌর এলাকা থেকে অপহৃত দুই কিশোর ও এক যুবককে মুক্তি দিয়েছে জেএসএস সংস্কারবাদীরা। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বাঘাইছড়ি পৌর এলাকা থেকে দন্তু চাকমার নেতৃত্বে সংস্কারবাদীদের একটি সশস্ত্র গ্রুপ তাদেরকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়।

অপহৃতরা হলেন সাজেকের বাঘাইহাট এলাকার হাজাছড়া গ্রামের সুমতি চাকমার ছেলে বিশ্ব কল্যাণ চাকমা (১৬) ও সুনীল চাকমার ছেলে নিশান চাকমা (১৭) এবং রপকারী এলাকার হেঙত্তে চাকমার ছেলে রিপন চাকমা (৩০)।

এদের মধ্যে অপহৃত নিশান চাকমার মা নিরূপা চাকমা বর্তমানে সাজেক নারী সমাজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ দুপুর ১২টার দিকে বাঘাইছড়ির বাবুপাড়া থেকে সাজেক ইউপির মেম্বার কালাকুচু চাকমার জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙ্গামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা উক্ত অপহরণ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি জেএসএস সংস্কারবাদীদেরকে ‘জুম্ম রাজাকার’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় রাজাকার ও আল-বদর বাহিনী নিজ জাতির জনগণের বিরুদ্ধে যা করেছিল সংস্কারবাদীরাও পাহাড়ি জনগণের উপর তাই করছে।’

তবে একাত্তরে যেমন রাজাকার-আলবদরদের পরাজয় হয়েছে, দুনিয়ায় সকল বিপ্লবী আন্দোলনে ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রতিক্রিয়াশীল গণশত্রুরা যেমন ধ্বংস হয়েছে, সংস্কারবাদীদেরও তাই হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি অবিলম্বে অপহৃতদের মুক্তি প্রদান এবং খুন, অপহরণ ও জাতি ধ্বংসের রাজনীতি পরিহার করে বিশেষ মহলের খপ্পড় থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে সামিল হওয়ার জন্য সংস্কারবাদীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউপিডিএফ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment