ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ

১৭ মে ২০১৮

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার নিশ্চিত কর, গণহত্যা বন্ধ কর! এই স্লোগানে ইসরাইল কর্তৃক গাজায় ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ মে ২০১৮) বেলা আড়াইটায় মিছিলটি খাগড়াছড়ি জেলা সদর স্বনির্ভর বাজার ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কার্যালয় থেকে বের করে নারাঙহিয়া রেড স্কোয়ার, উপজেলা গেইট হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার প্রদক্ষিণ করে স্বনির্ভর বাজার শহীদ অমর বিকাশ চাকমার সড়কের এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিপুল চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রতনস্মৃতি চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণ সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের শিকার। জাতিসংঘ কর্তৃক ফিলিস্তিনদের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের অধিকার স্বীকৃতির পরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে দুতাবাস ইসরাইলের গাজা উপত্যাকায় স্থানান্তর করলে ফিলিস্তিনের জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামেও সেনা-শাসক গোষ্ঠী পাহাড়ি জনগণের ন্যায় সংগত আন্দোলনকে দমন করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্য মুখোশ বাহিনী গঠন করে ইউপিডিএফ-এর সংগঠক মিঠুন চাকমাসহ ৬ জনকে হত্যা করেছে। এছাড়া গত ৪ মে সেনা প্রহরায় শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় যাবার পথে নব্য মুখোশ বাহিনী প্রধানসহ ৫জনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের মতো যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ তাদের ভূমি ও অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছে।

এছাড়াও বক্তারা আরো বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের উপর হামলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনা-সেটলার দুর্বৃত্তদের হামলার তেমনি কোন পার্থক্য নেই। সেখানে ইসরাইলের সেনাবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদে জনগণের উপর হামলা চালাচ্ছে। ঠিক তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের উপর এ দেশের সরকারের মদদে সেনাবাহিনী খুন-গুম-হত্যা-হামলা চালাচ্ছে।

বক্তারা অভিয়োগ করে বলেন, পার্বত্য চটট্টগ্রামের নেতৃত্বকে ধ্বংস করার জন এই মামলা দেওয়া হয়েছে। সেনা-শাসক গোষ্ঠীর চলমান হত্যার ঘটনায় ঘি ঢালার জন্য হেডম্যান কার্বারী সম্প্রীতির সম্মেলন করেছে। ইউপিডিএফ-এর সংগঠনক মিঠুন চাকমাকে দিনে দুপুরে হত্যা করাসহ ৬জন নেতা-কর্মীকে হত্যা কারার পরও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের প্রয়োজন পরেনি। এই ঘটনাক্রম প্রমাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করেছিলো, সেই অবস্থা বিরাজ করুক সেনাবাহিনী তা চায় না।

এই দেশের সরকার ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে নানান বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করে, কিন্তু ২০১৬ সালে ফিলিস্তিনি সংহতি দিবসে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলের ওপর হামলা চালিয়ে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী নিরূপা চাকমা ও খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি দ্বিতীয়া চাকমাকে সেনাবাহিনী আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দুই নেত্রীর উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি জানান।

বিক্ষোব সমাবেশ থেকে গত সোমবার ও কয়েক সপ্তাহ আগে চলা ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইসরাইলের সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা-হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বক্তারা ফিলিস্তিনের চলমান গণহত্যা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ তৈরী করা দাবিসহ ফিলিস্তিনি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি জনগণের উপর শাসক গোষ্ঠীর হত্যা-খুন-গুম এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জোরদারের করে লুটেরা শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বিশ্বে সকল নিপীড়িত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার করতে আহ্বান জানান।

বার্তা প্রেরক,

(সমর চাকমা)

দপ্তর সম্পাদক

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ

খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment