সীতাকুণ্ডে ত্রিপুরা পল্লী থেকে দুই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক –

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিজ বসতঘরে দুই আদিবাসী ত্রিপুরা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার পৌর সদরের জঙ্গল মহাদেবপুর এলাকার ত্রিপুরা পল্লী থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুই কিশোরী হলো ত্রিপুরা পল্লীর পুনেল কুমার ত্রিপুরার মেয়ে সুকুলতি ত্রিপুরা (১৫) ও সুমন কুমার ত্রিপুরার মেয়ে ছবি রানী ত্রিপুরা (১৪)। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেকে দুই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলেও দাবি করছেন।

এদিকে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান জানান, ঘটনাটি সকাল ১১টার দিকে ঘটলেও কেউ তাদের তা জানাননি। সন্ধ্যার দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশের একটি টিম রাতে দুর্গম ওই পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছবির ঘরে সুকুলতির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। একই ঘরে ছবির মরদেহ আধাঝুলন্ত ও মেঝেতে আধাশোয়া অবস্থায় ছিল। তাদের মুখ থেকে বিষাক্ত কিছুর গন্ধ পাওয়া গেছে।

নিহত সুকুলতি ত্রিপুরার বাবা পুনেল কুমার ত্রিপুরা জানান, একমাস ধরে স্থানীয় চৌধুরীপাড়ার ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবুল হোসেন তার বখাটে সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরা পল্লীতে গিয়ে সুকুলতি ত্রিপুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে সুকুলতি অসম্মতি জানালে বখাটে আবুল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে সপ্তাহখানেক আগে সুকুলতিকে তার হাতে তুলে দিতে তার ওপর জোর প্রয়োগ করে। বিষয়টির প্রতিবাদ জানালে আবুল হোসেন তার মেয়েকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেয়। তাদের অনুপস্থিতিতে তার মেয়ে সুকুলতি ও তার বান্ধবীকে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে এবং তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে বখাটে আবুল হোসেন। শুক্রবার সকালে সুকুলতি ও তার বান্ধবী ছবি ঘরে একা ছিল। এই মৃত্যুর পেছনে বখাটে ওই যুবকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

নিহতের পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় চৌধুরীপাড়া এলাকার বখাটে যুবক আবুল হোসেন ও তার সঙ্গীরা ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে দুই কিশোরীকে হত্যা করেছে। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে বখাটেরা দুই কিশোরীর মুখে বিষ ঢেলে বসতঘরের একটি কক্ষে দু’জনকে একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছে।

ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে জুমচাষের জন্য কিশোরী সুকুলতি ও ছবি রানীকে ঘরে রেখে তার বাবা-মা পাহাড়ে চলে যান। বিকেলে নিজঘরে ফেরার পর পুনেল ত্রিপুরার বসতঘরের একটি কক্ষে দুই কিশোরীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আর্তচিৎকার করেন সুকুলতির মা। এতে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment