শেখ হাসিনা কথিত ‘গ্যাঙ্গ অব ফোরের’ চরিত-মানস

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি চার ব্যক্তি সম্পর্কে দেশের মানুষকে সাবধান করে দিয়েছেন। এদের দু’জন রাজনীতিক এবং দু’জন সম্পাদক। এরা হলেন ড. কামাল হোসেন, ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম। এই শেষোক্ত দু’জনের নাম প্রধানমন্ত্রী নিজের মুখে উচ্চারণ করে দু’জনকে সম্মানিত করেছেন বলেই আমি মনে করি। ২০০১ সালের নির্বাচনের সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে আরেকটি সাধারণ নির্বাচন সামনে নিয়ে এদের সম্পর্কে দেশের মানুষকে সাবধান করে দিয়ে সময়োচিত কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

উপমহাদেশের এংলো ইন্ডিয়ান কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি এখানে বার্নার্ড শ’য়ের একটা উক্তি উদ্ধৃত করছি। বার্নার্ড শ’ বলেছেন,

‘God created Englishmen, God created Indians, but devil created Anglo Indians.’ ‘বিধাতা ইংলিশদের তৈরি করেছেন, বিধাতাই ইন্ডিয়ানদের তৈরি করেছেন। কিন্তু শয়তান তৈরি করেছে এংলো ইন্ডিয়ানদের।’ শ’য়ের এই উক্তিটিকে অনুসরণ করে আমার বলতে ইচ্ছে করে, বিধাতা আওয়ামী লীগ তৈরি করেছেন, বিধাতা বিএনপিও তৈরি করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের একটি তথাকথিত সুশীল সমাজ ও এই চার ব্যক্তিকে বিধাতা কি তৈরি করেছেন?

শেখ হাসিনা কথিত এই চার ব্যক্তিকে আমি নাম দিয়েছি বর্তমান বাংলায় গ্যাঙ্গ অব ফোর (gang of four)। দেশের বা দেশের মানুষের কোন দুঃখ-দুর্দশার সময়েই এদের দেখা মেলে না। ঠিক নির্বাচনের আগে এরা গণতন্ত্রের দরদী সেজে জেগে ওঠেন এবং গণতন্ত্রের সোজা পথে নয়, ষড়যন্ত্রের চোরা গলিতে হাঁটতে শুরু করেন। অনেক ভাল মানুষ এদের চক্রান্তের জালে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়েছেন। যেমন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন, বিচারপতি লতিফুর রহমান এবং অতি সম্প্রতি বিচারপতি এস কে সিনহা।

এই চার রত্নের চরিত-মানস বোঝা ও জানা কষ্টকর। রবীন্দ্রনাথের গানের ভাষায় জিজ্ঞাসা করতে হয়, ‘তুমি কোন কাননের ফুল, তুমি কোন গগনের তারা?’ ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পিতা প্রয়াত কফিলউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি বয়সের ভারে পীড়িত এবং হার্টের রোগী। এই অবস্থাতেও তিনি সীমান্ত পেরিয়ে মুজিব নগরে চলে এসেছিলেন।

বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতাকে ডা: বদরুদ্দোজাই তার নিজের গাড়িতে চড়িয়ে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে নিজে অধিকৃত ঢাকায় নিরাপদে ফিরে গিয়েছিলেন। কিভাবে হানাদারদের চোখ এড়িয়ে সীমান্তে এসেছিলেন এবং বাঘের গুহায় ফিরে গিয়েছিলেন। তাও এক রহস্য। কফিলউদ্দীন চৌধুরী পশ্চিম বঙ্গের বর্ডার গার্ডদের পাহারায় কলকাতা পৌঁছার পর তাকে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের থিয়েটার রোডের বাসায় নিয়ে যাওয়া এবং মুজিব নগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয় বাংলায়’ তার একটি সাক্ষাতকার প্রকাশের দায়িত্ব পড়েছিল আমার ওপর।

আমাকে তিনি আগে চিনতেন এবং স্নেহ করতেন। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি এই শরীর নিয়ে চলে এলেন, ডা: বদরুদ্দোজা এলেন না কেন? তিনি মৃদুস্বরে বলেছিলেন, ‘সে তো তোমারও বন্ধু। কোন দিন সুযোগ পেলে তাকেই জিজ্ঞাসা কোরো।’ এই প্রশ্নটি করার সময় ও সুযোগ আমার কখনও হয়নি। আমি তাকে বামপন্থী ও ভাসানী ন্যাপের সমর্থক বলে জানতাম। পরে দেখি, তিনি জিয়াউর রহমানের পেছনে ঘুর ঘুর করছেন। গণতন্ত্রের এতো বড় উপাসক কি করে একটা রক্তাক্ত সামরিক অভ্যুত্থানের নেতার সহযোগী হলেন, তার ক্যান্টনমেন্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হলেন এবং তার কিছুকাল পরেই চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় তার পাশের কক্ষে নিরাপদে বেঁচেবর্তে রইলেন, আবার চট্টগ্রাম বেতারে গিয়ে ভাষণ দিলেন তার আসল রহস্য এখনও অজানা।

ডা: বদরুদ্দোজার পরবর্তী জীবনের রাজনীতিই প্রমাণ করে তিনি পিতার অসাম্প্রদায়িক আদর্শে বিশ্বাসী নন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থন না করুন, বামপন্থী ভাসানী ন্যাপের সমর্থক থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সহচর বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং একজন সামরিক ডিক্টেটরের সমর্থক হন কি করে? তিনি মুক্তিযুদ্ধেও যোগ দেননি। ’৭১ সালে তার পিতা ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন, তিনি দেননি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছু আগে যখন হানাদারেরা দ্বিতীয় দফা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তখন তিনি কলকাতায় চলে যান। কিন্তু মুজিব নগর সরকারের সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি। কিংবা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত দেননি। স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধু সরকারকে সহযোগিতা দেননি, দিয়েছেন সামরিক শাসক সেনাপতি জিয়াউর রহমানকে। তাদের কৃপায় কয়েকদিনের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। এখন তাদের দ্বারাও পরিত্যক্ত হয়ে ‘গণতন্ত্রের মহিমা’ প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।

ড. কামাল হোসেন কেন রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই আওয়ামী লীগে এসেছিলেন তা আমি বুঝি না। তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদের নবাব পরিবারের ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দেন। কিন্তু বাংলায় কথা বলতে জানতেন না। অনেকে বলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের উর্দুভাষী অভিজাত বাঙালি পরিবার থেকে এসেছেন। তার সঙ্গে আমার যখন পরিচয়, তখন তিনি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর মতো উর্দু মিশ্রিত ভাঙ্গা বাংলায় কথা বলেন। এখন ভাল বাংলা বলা রপ্ত করেছেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষের জুনিয়র উকিল হিসেবে প্রথম আওয়ামী লীগের সংশ্রবে আসেন এবং ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। তার স্ত্রী সিন্ধী। কিন্তু ছয় দফার আন্দোলনের সময় ‘ফোরাম’ নামে কাগজ বের করে তাতে সমর্থন দেন। তাতে ড. কামালের জনপ্রিয়তা বাড়ে এবং তার প্রতি বঙ্গবন্ধুর আস্থা ও বিশ্বাসও বাড়ে। বঙ্গবন্ধু তাকে কাছে টেনে নেন এবং কামাল হোসেনের রাজনীতিক এবং আইনজীবী হিসেবে উত্থান শুরু সেই থেকেই।

কিন্তু ছয় দফার মতো একটি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেয়া এক কথা আর অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হওয়া আরেক কথা। যে জাতীয়তাবাদ বাংলার স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। এই জাতীয়তাবাদে ড. কামাল হোসেন বিশ্বাসী ছিলেন তার খুব কাছে গিয়ে আমি কোন প্রমাণ পাইনি। মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতি তার প্রচ্ছন্ন সমর্থন লক্ষ্য করেছি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় স্বাধীনতা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন গ্রেফতার হলেন, তখন ড. কামাল হোসেনের ওপর তার যা নির্দেশ ছিল, তা কি তিনি পালন করেছিলেন, না স্বেচ্ছায় হানাদার বাহিনীর কাছে ধরা দিয়েছিলেন? তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে তার অবস্থান নিয়েও বিতর্ক আছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে নিজের লেখা চরমপত্র প্রচারকালে এম আর আকতার মুকুল তার বিরুদ্ধে যে সব গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন, দেশে ফিরে তার কোন জবাবই তিনি দেননি। এটুকু জানি, পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার সময় বঙ্গবন্ধু যদি তাকে সঙ্গে করে নিয়ে না আসতেন, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে পারতেন না। মুক্তিযোদ্ধারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করত।

তার আর সব কাণ্ড কীর্তির কথা স্থানাভাবে এখানে লেখা যাবে না। তার রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ভূমিকা সম্পর্কে আমার মনে দারুণ সন্দেহ ও অবিশ্বাস দেখা দেয় তিনি বঙ্গবন্ধুর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর। আমি তখন ‘দৈনিক জনপদের’ সম্পাদক। সেটা কততম বিজয় দিবসের কথা আমার মনে নেই। অন্যান্য দৈনিকের মতো জনপদেরও ১৬ ডিসেম্বর তারিখে বিরাট কলেবরে বিজয় দিবস সংখ্যা বেরুবে। মাঝ রাতে কাজ শেষ করে ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে বাসায় ফিরেছি এই সময় অফিস থেকে টেলিফোন।

রিসিভার তুলতেই বিজ্ঞাপন ম্যানেজার জানালেন, স্যার, এই শেষ মুহূর্তে সরকারের নির্দেশ এসেছে, পত্রিকার যত বিজ্ঞাপনে ‘হানাদার বাহিনীর এই পরাজয় এবং মুক্তিবাহিনীর জয়লাভের এই দিনে’ কথাটি লেখা আছে তা তুলে দিতে হবে। কিন্তু সবগুলো বিজ্ঞাপনেই ‘হানাদার বাহিনীর’ কথাটির উল্লেখ আছে। এখন এগুলো তুলে কখন কাগজ ছাপা হবে, কখন বাজারে যাবে?

তার সব কথা কানে নেই নি। ‘হানাদার বাহিনী’ কথাটা তুলে দিতে হবে কথাটা শুনেই রাগে গা জ্বলে উঠেছে। জিজ্ঞাসা করেছি এটা কাদের নির্দেশ? বিজ্ঞাপন ম্যানেজার বললেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের। আমার মনে হলো এটা তথ্য প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দীন ঠাকুরের কাজ। তিনি তখন বঙ্গবন্ধুর অতিভক্ত সাজলেও তলেতলে যে খন্দকার মোশ্তাকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তা আমি জানতাম। আমি বিজ্ঞাপন ম্যানেজারকে বললাম, ‘হানাদার বাহিনী’ কথাটা আমরা তুলব না। অন্য কাগজগুলো যা করে করুক। এ জন্য শাস্তি পেতে হলে আমি শাস্তি পাব।

নির্দেশটি দিলাম বটে, রাতে আর ঘুম হলো না। সেই মধ্য রাতেই তথ্য সচিবকে ঘুম থেকে জাগালাম। তখন তথ্য সচিব ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের প্রৌঢ় জহুরুল হক। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হানাদার বাহিনী কথাটা বিজয় দিবস সংখ্যার প্রতিটি বিজ্ঞাপন থেকে তুলে দেয়ার নির্দেশ কেন দিয়েছেন? বিজ্ঞাপন দাতারাই বা কি মনে করবে? জহুরুল হক শান্ত কণ্ঠে বললেন, গাফ্ফার সাহেব, নির্দেশটি তো তথ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। আমরা শুধু নির্দেশটি সকল কাগজে জানিয়ে দিয়েছি। তার কথা জানার পর পরদিন দৈনিক জনপদে জীবনে প্রথম ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আমার কলামে লিখি। বিষয়টা নিয়ে শেখ ফজলুল হক মণির সঙ্গেও আলোচনা করি। আমার বক্তব্য নিয়ে শেখ মণি তার দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায় এক দীর্ঘ আলোচনা লেখেন। তার হেডিং ছিল, ‘গাফ্ফার ভাই, গোস্বা করিবেন না।’

কিস্সা এখানেই শেষ নয়। আমার স্ত্রী (এখন প্রয়াত) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তার চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাই। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার তখন সম্ভবত ছিলেন আবদুস সোবহান চৌধুরী। দূতাবাসের এক উচ্চপদস্থ অফিসার আমাকে একদিন দুঃখের সঙ্গে বললেন, ‘এবার কলকাতার উপদূতাবাসে বাংলাদেশের বিজয় দিবস আর পালিত হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ।’ বলাবাহুল্য, এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি কি কোন কারণ দর্শিয়েছেন? অফিসার বললেন, কারণ, অস্টারিটি। কৃচ্ছ্রতা সাধনের জন্য বিজয় দিবস পালন কাটছাঁট করা হলো।

শুনে কি জবাব দেব? কলকাতার সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে চেপে ধরলেন, বললেন, আপনি তো জানেন, বাংলাদেশের মুুক্তিযুদ্ধে কলকাতার এবং কলকাতার সাংবাদিকদের কি অবদান। আপনাদের অস্থায়ী সরকারও তো ছিল কলকাতায়। আর বিজয় দিবস পালনের জন্য সেই কলকাতাকেই করা হলো তালিকা থেকে বাদ? জবাব কি দেব? বলেছি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার অবদান পররাষ্ট্রমন্ত্রী কি করে জানবেন? শোনা যায়, তখন তিনি লাহোরের গুলবাগে অভিজাত এলাকায় অবসর বিনোদন করছেন। ‘কলকাতায় বিজয় দিবস বাতিল’ শীর্ষক একটি উপসম্পাদকীয় তখন লিখেছিলাম ‘দৈনিক জনপদে’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. কামালের ভূমিকাও ছিল বিতর্কমূলক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক হয় দিল্লীতে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যান ড. কামাল হোসেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আসেন ভুট্টোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজিজ আহমদ। এই আজিজ আহমদ ছিলেন ঝুনো সাবেক আইসিএস অফিসার। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে নূরুল আমিনের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় ছিলেন প্রাদেশিক চীফ সেক্রেটারি। তার নির্দেশেই একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।

দিল্লীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এই বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশের মধ্যে পাওনা-দেনা নিয়ে প্রচণ্ড দর কষাকষি হবে। ভারতীয় সংবাদপত্রের অভিযোগ, এই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনায় কোন দক্ষতাই দেখাতে পারেননি, অথবা চাননি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ‘আজিজ আহমদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল, আজিজ আহমদের অত্যন্ত বাধ্যগত এক ছাত্র ড. কামাল।’

আরও লেখা যায়, আজ আর লিখব না। আমি আজও ভেবে পাই না ড. কামাল হোসেন কেন আওয়ামী লীগে এসেছিলেন। সে কি কেবল ব্যক্তিগত ও পেশাগত প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য? বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল আদর্শের দু’টি সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রতি তার আস্থা কতটুকু? তিনি কি করে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী এবং সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের (বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী গোষ্ঠীর অন্যতম নায়ক) এক শীর্ষ সহযোগী ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে হাসিনা-বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে হাত মেলান? সঙ্গে জুটিয়েছেন তার জামাতা বাবাজিকে।

প্রসঙ্গটির ইতি টানছি না। শেখ হাসিনা যে গ্যাঙ্গ অব ফোর সম্পর্কে দেশের মানুষকে সতর্ক করেছেন, তাদের বাকি দুই রত্ন হচ্ছেন নিরপেক্ষতার ভেকধারী সম্পাদক। যদি সময় ও সুযোগ হয় তাহলে বারান্তরে তাদের চরিত-মানসও আমার পাঠকদের কাছে তুছে ধরব। – জনকন্ঠ

[ লন্ডন, ২৯ মে, মঙ্গলবার, ২০১৮]

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment