লংগদুতে অগ্নিসংযোগের একবছর : মানব বন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

লংগদু রিপোর্ট –

গত ২ জুন ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার তিনটি গ্রামে পাহাড়িদের বাড়ী-ঘরে অগ্নি সংযোগ ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক সাম্প্রদায়িক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দোষীদের যথাযথ বিচার, পাহাড়িদের নামে দায়েককৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারেসমূহকে আরো তিন বছর রেশন সহায়তা প্রদানসহ যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানব বন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

শনিবার সকালে লংগদু উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানব বন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২ জুন) সকাল দশটায়, উপজেলার মানিকজোড়ছড়া, তিনটিলা ও উপজেলা সদর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সড়কে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে ১নং আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৭নং লংগদু ইউপি চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু), ২৪ নং মাইনীমুখ মৌজার হেডম্যান মানিক কুমার চাকমা।

বক্তারা বলেন, একজন যুবলীগ নেতা হত্যাকান্ডকে নিয়ে লংগদুতে তিনটি গ্রামে পাহাড়িদের বাড়ী-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। বক্তারা এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। বক্তারা বলেন, এক বছর পর হলেও প্রধানমন্ত্রী অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ২১৩ পরিবারের জন্য ১৭৬টি  বাড়ী নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। তাই আমাদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বাড়ীগুলো যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তৈরী হয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদেরকে যাতে আরো তিন বছর পর্যন্ত ভিজিএফ রেশন দেওয়া হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানিয়েছেন বক্তারা।

মানব বন্ধনে ১নং আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় দুটি পৃথক মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হলেও একজন ব্যতীত সবাইকে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখনো ঘটনার মূলহোতা অধিকাংশ আসামী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

৭নং লংগদু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু) বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবর থেকে ১ বছরের জন্য প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাউল ভিজিএফ এর মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছে, কিন্তু কঠিন বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে আরো তিন বছরের জন্য রেশন বরাদ্দ করাসহ যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।

২৪নং মাইনীমুখ মৌজার হেডম্যান মানিক কুমার চাকমা স্মারকলিপি পাঠ করে শোনান ও পরে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২জুন তারিখে লংগদুর যুবলীগ নেতা ও মোটর সাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়ন এর হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ লোকজন লংগদু সদর, তিনটিলা, ও মানিকজোরছড়া গ্রামে পাহাড়িদের বাড়ী-ঘরে অগ্নি সংযোগ করলে এতে ২১৩টি পরিবারের ঘর-বাড়ী ও দোকানপাট পুড়ে যায়।

অবশেষে ঘটনার এক বছরের মাথায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসত ঘর নির্মাণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment