লক্ষ্মীছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

৮ জুন ২০১৮
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

খাগড়াছড়ি জেলাধীন লক্ষীছড়ি উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা অর্জন করে জাতি গঠনের ভূমিকা পালন করতে হবে’।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর এলকায় বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) লক্ষীছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবর্ধনায় অনুষ্ঠানে লক্ষীছড়ি উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

‘শিক্ষা হোক জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম হাতিয়া! জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনে এগিয়ে এসো ছাত্র সমাজ!’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পিসিপি লক্ষীছড়ি উপজেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক নয়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক পাইসুই মং মারমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ও সাবেক পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর লক্ষীছড়ি ইউনিট সংগঠক আপ্রুসি মারমা, পিসিপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বিপুল চাকমা, ডিওয়াইএফ জেলা শাখা সভাপতি বরুন চাকমা ও ৩নং বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হরি মোহন চাকমা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি পিসিপি দলীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। সংগীত পরিবেশনের শেষে পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বীর শহীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

বক্তারা বলেন, একটি জাতির পরিপূর্ণ বিকাশে শিক্ষা হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সুতরাং সে শিক্ষাকে গ্রহণ করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করলে হবে না, সুশিক্ষা অর্জন করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে সামিল হতে হবে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নিপীড়িত-নিযার্তিত জাতিকে শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে মুক্ত করতে ছাত্র সমাজকে লড়াই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবরে পড়ে আছে। দেশে বিসিএস পরীক্ষা থেকে সকল ধরনের পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাস হচ্ছে। যা স্বাধীন দেশে এর থেকে বড় লজ্জাকর বিষয় ছাড়া কি আর হতে পারে! উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়- এবছরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় সকল বিষয়ে প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক আমলারা। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কিংবা যথাযথভাবে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের এক শ্রেণীর মানুষ শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছে। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো অবাধে চালু রয়েছে প্রাইভেট-কোচিং ব্যবস্থা । ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের ক্লাসে ঠিক মত পাঠদান করা হয় না। টাকা না থাকায় সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রাবাস, যাতায়াতে সু-ব্যবস্থা, শিক্ষা সামগ্রিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় তারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে ঝড়ে পড়ছে।

বক্তারা আরো বলেন, শাসক-গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে তাদের সুবিধামত ব্যবহার করতে চাচ্ছে। ছাত্র সমাজের প্রগতিশীল চিন্তা ধারণাকে ধ্বংস করতে একটা শ্রেণীকে দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের মাঝে অবাধে মাদক দ্রব্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাহাড়িদের একটি শ্রেণীকে দিয়ে ছাত্র সমাজকে আন্দোলন থেকে বিচ্যুত রাখতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে শাসক শ্রেণী। তাই এসব বিষয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সতর্ক থাকতে হবে।

বক্তারা, পার্বত্য চট্টগ্রামে শাসক গোষ্ঠীর জাতিগত নিপীড়ন ও সকল ধরনের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তা প্রেরক

পাইসুই মারমা
সাংগঠনিক সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)
লক্ষীছড়ি উপজেলা শাখা

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment