বন্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় শতকোটি টাকারও অধিক ক্ষয়ক্ষতি

বাঘাইছড়ি রিপোর্ট –

সাম্প্রতিক বন্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন সেক্টরে শতকোটি টাকারও অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঘাইছড়ির করঙাতলী, বঙলতলী, বারবিন্দু ঘাট, বাঘাইছড়ি সদর, দুরছড়ি-সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তা ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, ফসলি জমি ও বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে বন্যার পানি। স্থানীয় লোকজন বলছে কাজলং নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ২০০৭ সালের বন্যাকে হার মানিয়েছে এবারের বন্যা।

বন্যার পানির তোরে বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রাণ হারিয়েছে দুইজন। গৃহপালিত গরু, ছাগল, হাঁস মুরগী সহ গবাদি পশু বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। গত ১৭ জুন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে তার কাছে এমনটাই বর্ণনা করেন স্থানীয় লোকজন।

করঙাতলী বাজারের মেম্বার জানান, এবারের বন্যায় করঙাতলী বাজারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত সোমবার রাতের বেলায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে গেছে। পানির স্রোত এতই বেশী ছিলো যে লোকজন কোন ভাবে নিজের প্রাণ নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে গেছে। করঙাতলী বাজার এলাকায় এবারের বন্যায় ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী দিন গুলোতে করঙাতলী বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো: আলী হোসেন জানান, উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নে এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবারের বন্যা ২০০৭ সালের বন্যাকেও হার মানিয়েছে। রাতের বেলায় পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা বোট নিয়ে লোকজনকে উদ্ধার করেছি। অনেক পরিবারকে টিনের চাল খুলে বের করতে হয়েছে। কোন কিছু বোঝার আগেই বন্যার পানি বেড়ে গেছে। কাজলং নদীর দুই পারে থাকা অনেক বাড়ীঘর পানির স্রোতে ভেসে গেছে। তিনি বলেন, বন্যার সাথে সাথে আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রদান করি। উপজেলার ১৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে আমরা প্রায় ২ হাজার পরিবারকে তিন দিন ধরে শুকনা খাবার, খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি।

তিনি অতি দ্রুত কাজলং নদী ড্রেজিং করার আবেদন জানান সরকারের প্রতি।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী জানান, বন্যায় বাঘাইছড়ি উপজেলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে বাঘাইছড়ি পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট নষ্ট হয়ে গেছে। এসব রাস্তা-ঘাট ঠিক করতে আমাদের অনেক বড়ো বাজেট দরকার হবে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে বাঘাইছড়ি পৌরসভার মানুষ কষ্ট পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা এ বছরের বন্যায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলা প্রত্যেকটি ইউনিয়নের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার প্রায় ২ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বাঘাইছড়িতে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অর্থায়নে চলমান বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পানির তোরে ভেসে গেছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে আমাদেরকে নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু কাজলং নদী নয়, রাঙ্গামাটি জেলার চেঙে, মেয়েনি, কর্ণফুলী সহ বেশ কয়েকটি নদী খননের প্রয়োজন। তিনি বলেন নদী ড্রেজিং এর বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। তিনিও এই নদী গুলো ড্রেজিং করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কবে না নাগাদ এই নদী ড্রেজিং কাজ শুরু হবে তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। নদী গুলো খনন করা না হলে রাঙ্গামাটি হ্রদের গভীরতা কমে যাবে। এরকম বন্যা বারবার হবে এবং সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment