রাঙ্গামাটিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

প্রেস রিপোর্ট –

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা আজ সোমবার (২৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) শারমিন আলম, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী, বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, রাঙ্গামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন’সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম কর্ণফুলী হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন এখানকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানী করে রাজস্ব আয় হচ্ছে। এ হ্রদটি আমাদের জেলার এক অমূল্য সম্পদ। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাছ শিকার বন্ধকালীন সময়ে মা মাছ শিকার করে এখানকার সম্পদ ধ্বংস করছে। আর এক শ্রেণীর অবৈধ দখলবাজ হ্রদটি দখল করে ঘরবাড়ী নির্মাণ করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। তিনি মাদক প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মাদক নির্মূলে সারাদেশে অভিযান চলছে। মাদক বেচাকেনা ও সন্ত্রাসীমূলক কোন কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হলে প্রশাসনকে অবহিত করে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এ জেলায় বসবাসরত জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জন প্রতিনিধি, প্রতিষ্ঠান প্রধান, নাগরিক সমাজ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’সহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিতভাবে সকলে কাজ করলে এ জেলার উন্নয়ন ঘটবে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) শারমিন আলম বলেন, সম্প্রতি জেলার নানিয়ারচর’সহ অন্যান্য জেলায় ভূমিধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে। ঝুকিপূর্ণ ঘরবাড়ী থেকে সরিয়ে অনেক পরিবারকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, কর্ণফুলী হ্রদের পার অবৈধভাবে দখল করে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের বিষয়ে প্রশাসন হতে দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: এমদাদ হোসেন বলেন, গত ১১ ও ১২জুন অতি বৃষ্টির ফলে যে সমস্ত জায়গায় রাস্তা ভেঙ্গে যায় সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। যার ফলে যান চলাচল অব্যাহত আছে।

বিএফডিসি’র ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গত মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য শিকার বন্ধ রয়েছে। যা আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মা মাছগুলো শিকার করে এসএ পরিবহন, পাহাড়ীকা গাড়ী করে পাচার করার সময় ধরা পড়ে যা মোটেই কাম্য নয়। তিনি মৎস্য শিকার বন্ধকালীন সময়ে কোন জেলে বা অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক মৎস্য শিকার ও বিক্রি করছে এধরনের ঘটনা নজরে এলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করার অনুরোধ জানান।

খাদ্য বিভাগের খাদ্য পরিদর্শক তপন কান্তি ত্রিপুরা বলেন, বর্তমানে ভান্ডারে ২৫০ মে. টন চাল ও ২৫০ মে. টন গম মজুদ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উত্তর, দক্ষিণ, ঝুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো: তৌফিকুল ইসলাম, মো: সাইফুল ইসলাম, কাজল তালুকদার, কনক বড়ুয়া ও মো: মিজানুর রহমান জানান, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণে আগামী ১৮ জুলাই ৩০ লক্ষ গাছের চারার রোপণ করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন। এরই লক্ষ্যে বন বিভাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এ জেলার ৬৮৯টি প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার চারা রোপণ করা হবে।

বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ, বিদ্যূৎ উন্নয়ন বোর্ড এর প্রতিনিধি জানান, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত বকেয়া বিল পরিশোধ করেনি তাদেরকে চলতি মাসে তা পরিশোধ করার অনুরোধ জানান। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যে কোন তথ্যের জন্য ০১৭৫৫৫৮৩০২৫ এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব-স্ব বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

অরুনেন্দু ত্রিপুরা
জন সংযোগ কর্মকর্তা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ
ছবি এবং সংবাদ : লিটন শীল।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment