তিনি নাচলেন, নাচালেন : অতঃপর আবেগে ভাসালেন

অনলাইন ডেস্ক –

ছবি : এএফপি

রাশিয়া বিশ্বকপের মাঝ পর্যায় চলছে। হঠাৎ করেই মাঠের লড়াইয়ে ছাপিয়ে আলোচনায় চলে এলেন ৫০ বছর বয়সী এক নারী!  অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। টুইটার থেকে ফেসবুক, ইউটিউব থেকে ইনস্টাগ্রাম- রাশিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চর্চিত চরিত্রের নাম কোলিন্দা গ্রাবার কিটরোভিচ। ২১তম বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট তিনি।

রাশিয়ায় নিজে দেশের ছেলেদের এক একটা জয় কোলিন্দা যেভাবে সেলিব্রেট করেছেন, তাতে প্রতি বারই মনে হয়েছে যেন বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। মাঠে যখনই এসেছেন, পরনে ছিল দাবার ছকের মতো লাল-সাদা রঙের জার্সি। ভিআইপি বক্স থেকে দেখেছেন ছেলেদের প্রতি আক্রমণ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যেদিন ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া, সব প্রটোকল ভেঙে তিনি হাজির হলেন রকিতিচদের ড্রেসিংরুমে!

ছেলেদের সঙ্গে জয়ের আনন্দে সেই ড্রেসিংরুমেই শুরু করলেন নাচ! একইসঙ্গে গান গাইছেন, নাচছেন, ছবি তুলছেন। আর সেইসব সুখস্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে যায় সারা দুনিয়ায়। মুহূর্তের মধ্যে রাশিয়া বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ার এই প্রেসিডেন্ট।

রবিবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামেও স্বমহিমায় দেখা গেছে তাকে। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। হাফ ডজন ম্যাচ জিতে ৭ নম্বরে এসে হারল ক্রোয়েশিয়া। স্বপ্নের ফাইনালেই স্বপ্নভঙ্গ হল ফ্রান্সের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে। নতুন চ্যাম্পিয়ন থেকে বঞ্চিত হলো ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপ কাছে এসেও ধরা না দেওয়ায় স্বভাবতই শোকাহত হয়ে পড়েন সমর্থকেরা। বিমর্ষ কোলিন্দা কেবল একটা চুমু দিয়ে দিলেন বিশ্বকাপের অধরা ট্রফিটিতে।

ম্যাচ শেষে ভিকট্রি স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ‘সোনার ছেলে’ লুকা মদ্রিচকে জড়িয়ে কাঁদলেন ক্রোয়েশিয়ান প্রেসিডেন্ট। গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখল মমতাময়ী এক প্রেসিডেন্টকে। ভীষণ লড়াই করে হেরে যাওয়া ‘ছেলে’র হাত ছাড়েননি কোলিন্দা। ইতিহাসে নাম লেখানো এই ছেলেদের পিঠ চাপড়ে তিনি বলেন, ‘অবর্ণনীয়। তোমাদের মধ্যে আগুন আছে। তোমরা সাহসী। সিংহের সঙ্গে লড়াই করে ইতিহাস তৈরি করেছ। আমরা তোমাদের জন্য গর্বিত।’

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment