রুশ-মার্কিন বৈরিতার জন্য পূর্বসূরীদের দায়ী করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক –

হেলসিংকিতে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে গতকাল যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক করছিলেন, তখন এর বিরোধিতা করে হেলসিংকির রাস্তায় বিক্ষোভ করেন পরিবেশবাদীরা। ছবি : এএফপি

রুশ-মার্কিন সম্পর্ক কখনো শোচনীয় ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর বর্তমানে দুই দেশের মধ্য যে বৈরিতা তৈরি হয়েছে, এর জন্য নিজের পূর্বসূরিদের দায়ী করেছেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসার কয়েক ঘণ্টা আগে গতকাল সোমবার এক টুইটার বার্তায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে গতকাল সোমবার বৈঠক করেন ট্রাম্প ও পুতিন। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে। এসব বিষয়ের মধ্যে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ, সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি, ইরান চুক্তি ও ইউক্রেন সংকট। ফিনল্যান্ডে পৌঁছার এক দিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি অবশ্যই মার্কিন নির্বাচনে সম্ভাব্য রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে পুতিনের কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন।

গতকাল এমন একসময় তাঁদের মধ্যে বৈঠকটি হলো, যার তিন দিন আগে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১২ রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেন এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান রবার্ট মুয়েলার। এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করার আহ্বান জানান। কিন্তু সে আহ্বান আমলে না নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কের জন্য পূর্বসূরিদের দায়ী করেন তিনি। সেই সঙ্গে রবার্ট মুয়েলারের তদন্তকেও বরাবরের মতো ‘ভূতুড়ে’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

গতকাল সকালে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই শোচনীয় ছিল না। যতটুকু খারাপ হয়েছে, সেটার জন্য দায়ী (পূর্বসূরিদের) অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতা; এখন যেমনটা হচ্ছে (রবার্ট মুয়েলারের) ভূতুড়ে তদন্তের মাধ্যমে।’

অবশ্য রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবেও দেখেন না ট্রাম্প। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ‘সিবিসি নিউজ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, রাশিয়া এখনো যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু। তবে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে রাশিয়াকে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখেন তিনি। গতকাল প্রচারিত হওয়া ওই সাক্ষাৎকারে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ‘খুব আশাবাদী’ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

রাশিয়াও গতকালের বৈঠকের আগে জানায়, তারাও খুব বেশি আশাবাদী নয়। পুতিনের উপদেষ্টা উরি উশাকভ বলেন, ‘দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখনো খারাপ। আমাদের এখন এ সম্পর্ককে সঠিক পথে নিয়ে আসতে হবে।’

ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে যুক্তরাজ্য সফর করেন ট্রাম্প। এর আগে অংশ নেন ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে। সেখানে তিনি জার্মানিসহ জোটের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের মূল অভিযোগ, জোটের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ ব্যয় করে, অন্য সদস্যরা তা করে না। সম্মেলনের পর ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, জোটের সব সদস্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এ দাবি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে গতকাল সকালে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউল নিনিস্তোর সঙ্গে বৈঠকের সময়ও ট্রাম্প ন্যাটোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের এই সামরিক জোট কখনোই খুব শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ ছিল না। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment