চঞ্চুমনি চাকমার উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ

১৮ জুলাই ২০১৮

প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তার নামে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষিত জেএসএস সংস্কারপন্থী ও নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ), বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন (এইচডব্লিউএফ) -এর নেতৃবৃন্দ।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার উপর হামলার উস্কানীদাতা জেএসএস সংস্কারপন্থী পেলে, সুদর্শন ও নব্য মুখোশ সর্দার জ্যোলেয়্যাসহ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আজ বুধবার (১৮ জুলাই ২০১৮) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান।

সমাবেশের আগে সকাল ১০টায় স্বনির্ভরের ইউপিডিএফ-এর কার্যালয়ের সামনে থেকে এক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নারাঙহিয়া রেড স্কয়ার হয়ে চেঙে স্কয়ার যেতে চাইলে কলেজে সরকারি প্রোগ্রাম চলছে অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ উপজেলা পরিষদের সামনে মিছিলটি আটকিয়ে দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে মিছিলে বাধা প্রদানের প্রতিবাদ জানান। পরে সেখান থেকে মিছিলটি নারাঙহিয়া রেড স্কয়ারে এসে উপালি পাড়া, মধ্য খবংপুজ্জে হয়ে পুনরায় স্বনির্ভরের ইউপিডিএফ কার্যালয়ের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ-সভাপতি পলাশ চাকমার সভাপতিত্বে ও পিসিপি’র জেলা সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তপন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক অবনিকা চাকমা প্রমুখ।

বক্তারা চঞ্চুমনি চাকমার উপর হামলার ঘটনাকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, সেনা-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জেএসএস সংস্কারপন্থী নেতা পেলে, সুদর্শন চাকমার উস্কানিতে চঞ্চুমনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। অন্যথায় প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিনদুপুরে কোর্ট বিল্ডিং ও প্রেস ক্লাবের সামনে একজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধির উপর এ ধরনের হামলা কারোর পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তারা বলেন, ঘটনার দিন ইচ্ছে করলে পুলিশ হামলাকারী সবাইকে গ্রেফতার করতে পারতো, কিন্তু তারা সেটা না করে হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দিয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, সেনা-প্রশাসন জেএসএস সংস্কারপন্থী ও নব্য মুখোশ বাহিনী সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি জিইয়ে রেখে কায়েমী স্বার্থ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বছর ৩ জানুয়ারি ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমাকে হত্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে হত্যা-গুম, রাঙ্গামাটির কুদুকছড়ি থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রীকে অপহরণ ও সম্প্রতি নান্যাচর থেকে ১৮ গ্রামবাসীকে অপহরণের ঘটনায় সেনা-প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা অভিযোগ করে আরো বলেন, সংস্কার ও মুখোশ সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ি শহরের মধুপুর, তেঁতুলতলা, খাগড়াপুর, কদমতলী এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালালেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপরন্তু সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-গোলাবারুদ সরবরাহ করাসহ গাড়িতে করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ইউপিডিএফ-এর নেতা-কর্মী, সমর্থকদের খুন ও এলাকার জনগণের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের কাজে লেলিয়ে দিচ্ছে। সংস্কারপন্থী ও নব্য মুখোশ সন্ত্রাসীদের সাথে সেনা-প্রশাসনের যোগসাজশ এখন আর গোপন কোন বিষয় নয় বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, সরকার একদিকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, অপরদিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে সাধারণ জনগণকে নিপীড়ন-নির্যাতন-হয়রানি করে চলেছে। সমানতালে চলছে সেনা ক্যাম্প সম্প্রসারণসহ ভূমি বেদখলের পাঁয়তারা। এছাড়া নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-খুন-গুম-অপহরণের ঘটনাও অব্যাহত ভাবে ঘটেই চলেছে।

সমাবেশ থেকে বক্তারা সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষিত নব্য রাজাকার সংস্কারপন্থী জেএসএস ও নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র গণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জন সাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা অবিলম্বে চঞ্চুমনি চাকমার উপর হামলার উস্কানিদাতা সংস্কারপন্থী নেতা পেলে, সুদর্শন ও নব্য মুখোশ সর্দার জোলেয়্যাসহ হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন-হত্যা-খুন-গুম-অপহরণ বন্ধের দাবি জানান। একই সাথে বক্তারা ইউপিডিএফ-এর সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসাসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক,

(সমর চাকমা)

দপ্তর সম্পাদক

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ

খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment