তৃতীয় মত

বাংলাদেশে কি অশুভ তৃতীয় পক্ষ নেই?

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশে যে অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, সেটি শেষ হয়েছে। দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের একটা নজির সৃষ্টি করে স্কুল ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ঘরে ফিরে গেছে।

এই অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটিকে যে রাজনৈতিক চক্রগুলো, তারা বিএনপি-জামায়াত হোক, আর তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক যুক্তফ্রন্ট (অনেকে বলেন যুক্তফ্রড) হোক, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের কাজে সরকার উচ্ছেদের সন্ত্রাসে পরিণত করতে চেয়েছিলেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ছাত্র আন্দোলনের ফলে সরকার অবশ্যই ক্রেডিবিলিটি কিছুটা হারিয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকে সন্ত্রাসে পরিণত করার চক্রান্তে এই অশুভ জোট আরেকবার পরাজিত হল।

এই অশুভ জোটকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আখ্যা দিয়েছেন ‘তৃতীয় পক্ষ’। সরকার যদি এক পক্ষ এবং ছাত্র আন্দোলনকারীরা দ্বিতীয় পক্ষ হয়- তাহলে এই অশুভ জোট হচ্ছে তৃতীয় পক্ষ।

ছাত্ররা নয়, এই তৃতীয় পক্ষই দেশে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। সরকার লাঠিপেটা করে এই আন্দোলন দমন করেনি। আন্দোলনের শুরুতেই শেখ হাসিনা স্কুল ছাত্রদের এই আন্দোলনের ন্যায্যতা স্বীকার করে তাদের দাবি-দাওয়াকে সঠিক আখ্যা দিয়েছেন।

কিন্তু এই আন্দোলনকে আড়াল করে যে বয়স্ক তৃতীয় পক্ষ রাজপথে গাড়িঘোড়া ভাংচুর, অগ্নিকাণ্ড ঘটানো শুরু করে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ অফিসে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করেছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন, ‘যদি কেউ আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে অগ্রসর হয় তাহলে তাকে কি চুমু খেতে হবে?’

তিনি আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা সম্পর্কে সঠিক কথাই বলেছেন। পরে তিনি কেন কথাটা প্রত্যাহার করেছেন তা আমি জানি না। শত্রুপক্ষের হামলার মুখে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার নৈতিক দুর্বলতা দেখানো উচিত নয়।

কারণ, এই আক্রমণকারীরা স্কুলের ছাত্রছাত্রী ছিল না। ছিল বিএনপি ও জামায়াত তথা তৃতীয় পক্ষের বয়স্ক ও সশস্ত্র ক্যাডার। এরা আগেও আন্দোলনের নামে রাজপথে সন্ত্রাস সৃষ্টি, আগুনে বোমা দিয়ে অসংখ্য নিরীহ নর-নারী ও শিশু হত্যা করেছে। দেশে একটা ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে।

এবারেও এই সন্ত্রাস মোকাবেলা করার ব্যাপারে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশসহ আওয়ামী লীগের বহু সমর্থক আহত হয়েছে।

এখন এই আক্রান্তদের গুণ্ডা আখ্যা দিয়ে আক্রমণকারীদের স্কুলছাত্র সাজানো চরম মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু এই মিথ্যাচারটি করেছেন তিনি, যিনি সারা জীবন বামপন্থী তকমার আড়ালে প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীদের সমর্থন জুগিয়ে চলেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগ ও হাসিনা-ফোবিয়ায় ভুগছেন (তার এই রোগটি ক্রনিক) তেমন এক রাজনীতিক ও কলামিস্ট।

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে তার একটি লেখা- ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছোট করে দেখার অবকাশ নেই’ আমার চোখে পড়েছে। লেখাটি মিথ্যাচারে পূর্ণ। এটি ঢাকার কোনো একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমি পাঠ করেছি লন্ডনের একটি প্রো-জামায়াতি বাংলা সাপ্তাহিকে। লন্ডনে জামায়াত সমর্থক কাগজগুলোতেই তার লেখা নিয়মিত পুনর্মুদ্রিত হয়।

অন্ধ রাজনৈতিক ঈর্ষা ও ব্যক্তিবিদ্বেষ একজন পণ্ডিতকেও কতটা অধঃপতিত করতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিশ্বখ্যাত পণ্ডিত নীরদ সি চৌধুরীর লেখায়। বাংলাদেশের এই সাবেক বামপন্থী তাত্ত্বিক নীরদ চৌধুরীর মতো পণ্ডিত নন, কিন্তু তার একজন অঘোষিত অনুসারী।

তিনি তার লেখায় অবলীলাক্রমে মিথ্যাচার করতে পারেন। তিনি ‘ডেইলি স্টার’ থেকে ওবায়দুল কাদেরের চুমু খাওয়া সংক্রান্ত বক্তব্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে দেখিয়েছেন, মন্ত্রী আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে এই হুমকি দিয়েছেন। ডেইলি স্টারের খবরে এ ধরনের কথা বলা হয়নি।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যও আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে ছিল না, ছিল বিএনপি-জামায়াতের হামলাকারীদের উদ্দেশে। কারণ, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করতে যায়নি, এমনকি রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করেনি। করেছে আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী বয়স্ক গুণ্ডারা।

ওবায়দুল কাদের তাদের বিরুদ্ধেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। অথচ এই বামাচারী পণ্ডিত দেখিয়েছেন স্কুল ছাত্রছাত্রীরা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সম্পাদক ৫ আগস্ট আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ করে এই কথাগুলো বলেছেন।

বিএনপি-জামায়াতের মিথ্যা প্রচারণার সঙ্গে এককালের ‘ইসলামিক ব্রাদারহুডের’, পরে বামাচারী এই রাজনৈতিক কলামিস্টের চিন্তাধারার চমৎকার মিল দেখা যায়। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সভায় ভয়াবহ হামলায় আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী হতাহত হন।

শতাধিক সাধারণ মানুষ নিহত ও গুরুতরভাবে আহত হয়। তখন বিএনপি ক্ষমতায়। তারা প্রচার করেছিলেন, শেখ হাসিনা তার লুপ্ত জনপ্রিয়তা উদ্ধারের জন্য নিজের দলের দ্বারাই এই হামলা চালিয়ে এবং নিজে আহত হয়ে জনসাধারণের মনে বিএনপি-সরকারকে হেয় করা এবং তার নিজের সম্পর্কে জনমনে সহানুভূতি ও সমর্থন সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে একথা তো বলেছেনই, তাদের তখনকার সমর্থক সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিনে’ এই প্রচার চালানো হয়েছিল।

এই ঘটনার চৌদ্দ বছর পরও আমাদের বামাচারী পণ্ডিতকে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একই অসৎ প্রচারণা চালাতে। তিনি তার নিবন্ধে লিখেছেন, ‘এখানে প্রশ্ন হল, গুলি ছুড়তে ছুড়তে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা অগ্রসর হচ্ছে, না এই পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গুণ্ডারা একাজ করেছে, যাতে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের বিবৃতি দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়?’

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা (লেখকের ভাষায় তারা গুণ্ডা) প্রকাশ্য দিবালোকে তাদের প্রধান দলের অফিসে হামলা করবে এই ধরনের হাস্যকর কথা সুস্থ মস্তিষ্কের লোকের পক্ষে বলা সম্ভব কি? বামাচারী পণ্ডিত নিজেই লিখেছেন, ‘স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না’।

তাহলে আওয়ামী লীগ অফিসে তারা হামলাকারী হয় কী করে এবং ওবায়দুল কাদের তাদের হুমকি দেবেন কেন? তিনি গুলি ছুড়তে ছুড়তে যারা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালাতে এসেছিল তাদের উদ্দেশে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। এটাকেও বিকৃত করে বামাচারী পণ্ডিত বিএনপির প্রচারণায় হাওয়া দিয়েছেন।

দেখাতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগ অফিসে যেসব সশস্ত্র বয়স্ক লোকের হামলা প্রতিরোধে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এগিয়ে এসেছিল এবং আহতও হয়েছে তারা সবাই গুণ্ডা। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অনেক অপকর্মের অভিযোগ আছে, তাই বলে আওয়ামী লীগের অফিস হামলা থেকে রক্ষার কাজে তাদের এগিয়ে আসাও কি অপকর্মের তালিকায় পড়ে?

এই বামাচারী কলামিস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেরও বিকৃত ব্যাখা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আন্দোলনে সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এটা কি তিনি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন? ছাত্রছাত্রীরা তাদের আন্দোলনে সীমা লঙ্ঘন করেনি। সরকারও এটা স্বীকার করেছে।

তাহলে তাদের সতর্ক করা হবে কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুমকি দিয়েছেন এই আন্দোলনে সমর্থন দানের আড়ালে যে অশুভ তৃতীয় পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাস ও অরাজকতা সৃষ্টির কাজে নেমেছিল তাদের উদ্দেশে।

আমি এই আন্দোলনের সময় ঢাকায় ছিলাম এবং দেখেছি, সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহার করেছে। কিন্তু ছাত্র সেজে যে বয়স্ক অনুপ্রবেশকারীরা একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে সরকার উচ্ছেদের সন্ত্রাসে পরিণত করার চেষ্টা করেছে, তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে।

বামাচারী পণ্ডিত তার লেখায় প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কথিত এই ‘তৃতীয় পক্ষ’ কারা? প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই এই তৃতীয় পক্ষ বলতে সরকারবিরোধী অন্যান্য চক্রের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতকেও বুঝিয়েছেন। তিনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি অবস্থায় এককভাবে চিহ্নিত করতে যাবেন কেন? বামাচারী পণ্ডিত এখানেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এদের বলেছেন, তৃতীয় পক্ষ। আমি বলি অশুভ তৃতীয় পক্ষ। স্কুল ছাত্রছাত্রীদের এই ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিতে হলে এই তৃতীয় পক্ষের নেতাদের উচিত ছিল এই আন্দোলনকে প্রকাশ্যে নৈতিক সমর্থন দান এবং তাদের সভা ও সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশের জন্য যোগদান এবং শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনটিকে সফল হওয়ার কাজে সাহায্য করা।

অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশের জন্য মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবসহ রাজনৈতিক নেতারা ছাত্রদের মিটিং-মিছিলে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো হিংসাত্মক পন্থার দিকে আন্দোলনকে টেনে নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করেননি।

শেরে বাংলা ফজলুল হক পর্যন্ত ১৯৪৮ সালে ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনের প্রথম দিকের মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছিলেন।

এবারের ছাত্রদের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী কথিত তৃতীয় পক্ষের নেতাদের, বিশেষ করে বিএনপির কোনো নেতানেত্রীকে ছাত্রদের সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশের জন্য আসতে দেখা যায়নি।

তারা ঘরে বসে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাদের ক্যাডারদের দ্বারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনটিকে সন্ত্রাসের রাজনীতিতে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। সরকার তা কঠোর হাতে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এজন্যই বামাচারী পণ্ডিত এবং তার সমগোত্রীয় বুদ্ধিজীবীদের এত মর্মজ্বালা।

বামাচারী পণ্ডিত তার লেখায় স্কুল ছাত্রছাত্রীদের ট্রাফিক আইন শিক্ষাদানের যে ব্যবস্থার কথা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু তার আগে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে ট্রাফিক আইন সংশোধন, তা যাতে সবাই পালন করে তার ব্যবস্থা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর সাজাদানসহ যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে চমৎকারভাবে ভুলে গেছেন।

সরকার যদি এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে, তাহলে অবশ্যই আবার আন্দোলনের কথা ভাবতে হবে। তবে বামাচারী পণ্ডিতের সমর্থিত তৃতীয় পক্ষ যে সেটাকেও সন্ত্রাসে পরিণত করার চেষ্টা করবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়?

বিলাতে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হলেও এখানেও স্কুল ছাত্রছাত্রীদের ট্রাফিক আইন এবং নিরাপদ পথচলা শিক্ষা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথাটি বাংলাদেশেও প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি ভালো কাজ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অর্থ এই নয় যে, দেশে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার জন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাই দায়ী। বামাচারী পণ্ডিত এক্ষেত্রেও তার দৃষ্টি বিভ্রমের প্রমাণ দিয়েছেন। – যুগান্তর

লন্ডন, ১২ আগস্ট, রবিবার, ২০১৮

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment